নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২:৪৯, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
এক সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দেখা যেতে পারে, মুখের এক পাশ ঠিকমতো কাজ করছে না। চোখও বন্ধ হচ্ছে না পুরোপুরি। হাসলে মুখ বেঁকে যাচ্ছে। পানি খেতে গেলে ঠোঁটের পাশ দিয়ে পড়ে যাচ্ছে। অনেকেই ভয়ে স্ট্রোকের কথা ভাবেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি বেলস পালসি। যাকে বলা হয় মুখের নার্ভের সাময়িক দুর্বলতা। সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অনেক রোগীরই কয়েক মাসের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
বেলস পালসির কারণ
বেলস পালসি হঠাৎ ঘটে। অনেক সময় কোনো পূর্বলক্ষণ থাকে না। মুখের এক পাশ অকস্মাৎ দুর্বল হয়ে যায়। এর সম্ভাব্য কারণ ভাইরাসের সক্রিয়তা, যেমন হারপিস জোস্টার। নার্ভে প্রদাহ বা ফোলা।
ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায় ডায়াবেটিস, গর্ভাবস্থা, উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ ও ঠান্ডা বাতাস।
বেলস পালসির প্রধান লক্ষণগুলো:
মুখের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া; চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে না পারা; কপালে ভাঁজ ফেলতে না পারা; কথা জড়ানো এবং খাবার মুখের পাশ দিয়ে পড়ে যাওয়া।
অন্যান্য লক্ষণ: চোখ শুকানো; কানে শব্দ বেশি শোনা; স্বাদ কমে যাওয়া।
সতর্কতা: হাত-পা দুর্বল বা কথা জটিল হলে স্ট্রোকের সম্ভাবনা থাকতে পারে। তখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
চিকিৎসা মূলত ওষুধের মাধ্যমে হয়ে থাকে যেমন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে স্টেরয়েড দেওয়া হয়। প্রয়োজন হলে অ্যান্টিভাইরাল। ব্যথা কমাতে প্যারাসিটামল।
চোখের যত্ন: কৃত্রিম চোখের পানি। লুব্রিকেটিং অয়েন্টমেন্ট। আই টেপিং ও সানগ্লাস ব্যবহার। রিহ্যাবিলিটেশন; ফিজিওথেরাপি বেলস পালসির মূল চিকিৎসা। এটি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে করতে হবে।
ইনফ্রারেড থেরাপি (আইআরআর): ব্যথা কমায়, রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। গরম সেঁক: দিনে ২–৩ বার। মুখে হালকা মালিশ। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ফেসিয়াল রিট্রেনিং এক্সারসাইজ। পিএনএফ ফেসিয়াল এক্সারসাইজ: হাতের সহায়তায় মুখের পেশি সক্রিয় করা।
ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলেশন: বিশেষজ্ঞের পরামর্শে।
দৈনন্দিন যত্ন: চোখের যত্ন ও সুরক্ষা রাখা। নরম খাবার খাওয়া। ধীরে কথা বলা। দুর্বল পাশের দিকে খাওয়া। স্ক্রিন টাইম কমানো। ডায়াবেটিস ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। পর্যাপ্ত ঘুম। মানসিক চাপ কমানো। ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলা।
বেলস পালসি সাধারণত ভয়ঙ্কর নয়। সঠিক চিকিৎসা ও যত্নে মুখের সাময়িক দুর্বলতা দ্রুত ঠিক হয়ে যায়। আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে নিয়মিত মনিটরিং ও ফিজিওথেরাপি জরু
ব্রেকিং