মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০৩ এএম

ছবি তোলায় আদালত চত্বরে সাংবাদিককে লাথি, সাবেক বিআরটিএ কর্মকর্তা

জাতীয়
Sub Editor
ছবি তোলায় আদালত চত্বরে সাংবাদিককে লাথি, সাবেক বিআরটিএ কর্মকর্তা
ছবি: কালের কন্ঠ

দুর্নীতির মামলায় বরিশাল বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক এমডি শাহ আলমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন।

শুনানি শেষে বিচারক শেখ ফারুক হোসেন সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

সন্ধ্যায় কারাগারে নেওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে এক সাংবাদিককে লাথি মারার অভিযোগ ওঠে শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এ সময় তার স্বজনরাও ছবি তোলায় বাধা দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এমডি শাহ আলম বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার বিআরটিএ কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বরিশালে ৩৪৪টি, ঝালকাঠিতে ৯৩৩টি এবং পিরোজপুরে ১ হাজার ৮১টি বাস ও ট্রাকের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম জানান, অবৈধ যানবাহন রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগে গত বছর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) শাহ আলমের বিরুদ্ধে মামলা করে। ওই মামলায় তিনি আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। সোমবার একই মামলায় নিম্ন আদালতে পুনরায় জামিন চাইতে গেলে তা নাকচ হয়।

দুদক সূত্রের দাবি, শাহ আলম প্রায় আড়াই হাজার অবৈধ যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দিয়েছেন। গত আট বছরে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও চট্টগ্রাম বিআরটিএ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে প্রায় ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র।

জানা যায়, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বরিশাল বিআরটিএতে এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে পিরোজপুর ও ঝালকাঠিতে কর্মরত অবস্থায় প্রায় ৯শ থেকে এক হাজার অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

২০২২ সালে পুনরায় বরিশাল বিআরটিএতে যোগ দিয়ে ওই বছরের মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ২৫৫টি গাড়ি অসংগতিপূর্ণভাবে রেজিস্ট্রেশন দেন শাহ আলম। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক (প্রশাসন) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তবে তদন্ত চলাকালেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ।

তদন্তের মধ্যেই ২০২২ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে আরও ৮৯টি অবৈধ গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব গাড়ির মালিক চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও আইন ও অফিস আদেশ অমান্য করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বরিশাল বিআরটিএ থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।