চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার খোরদ গ্রামে বাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় মিলেছে সোনালি রঙের ৫টি প্রাচীন ধাতব মূর্তি। তিন দিন গোপন রাখার পর সোমবার এ খবর প্রকাশিত হয়।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি সন্ধ্যায় মূর্তিগুলো উদ্ধার করে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েছে, এগুলো তামার তৈরি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার আব্দুল মোজামের পরিত্যক্ত বাঁশবাগানে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির সময় শ্রমিকরা এক থেকে দেড় ফুট গভীর মাটি খুঁড়ছিলেন। তখন মাটির নিচে একটি ধাতব কলসের সন্ধান পান। কলস খুলে ভেতরে সোনালি রঙের মূর্তি দেখে শ্রমিকরা মনে করেন এগুলো স্বর্ণের তৈরি। পরে আব্দুল মোজাম মূর্তিগুলো বাড়িতে নিয়ে যান এবং বিষয়টি গোপন রাখার নির্দেশ দেন।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লোকজন মূর্তিগুলো দেখতে খোরদ গ্রামে জড়ো হতে শুরু করেন। সোমবার বিজিবি সেখানে অভিযান চালিয়ে এক কেজি ৯৮২ গ্রাম ওজনের পিতলের কলস থেকে এক কেজি ৭৩২ গ্রাম ওজনের ৫টি মূর্তি উদ্ধার করে।
চুয়াডাঙ্গা গোল্ড টেস্টিং অ্যান্ড হলমার্ক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে জানা যায়, মূর্তিগুলো সোনার নয়, বরং তামার তৈরি। আলমডাঙ্গা থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
খোরদ গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, "মোজাম বাড়ি তৈরির প্রস্তুতিতে বাঁশবাগানে মাটি খুঁড়ছিলেন। তখন একটি পিতলের হাড়ি পাওয়া যায়, মুখ লাল কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। বিজিবি ও পুলিশ এসে পরীক্ষা করে নিয়ে গেছে।"
ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, "প্রথমে মূর্তিগুলোকে স্বর্ণের মনে হয়েছিল। পরে বিজিবি এগুলো পরীক্ষা করে তামার তৈরি বলে নিশ্চিত করেছে।"
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, "উদ্ধারকৃত পাঁচটি মূর্তিতে ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ তামার উপস্থিতি রয়েছে। এগুলো স্বর্ণ নয়।"