দক্ষিণ গাজার একটি নির্ধারিত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ‘গ্রিন রাফাহ’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাজার বাস্তবতা পরিবর্তন করে অঞ্চলটিকে স্থায়ীভাবে খণ্ডিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সমর্থনে নেওয়া এই প্রকল্পটি দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাটি ইসরায়েলের একতরফাভাবে নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে অবস্থিত। এই রেখাটি কার্যত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত একটি বাফার জোন হিসেবে কাজ করছে, যার কারণে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের এলাকা আরও সংকুচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও রোববার জানায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় প্রকল্পটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর লক্ষ্য হামাসের প্রভাবমুক্ত এলাকায় অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রকল্পের আওতায় পানি, পয়োনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো স্থাপনের কাজ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কাজে যুক্ত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় মোবাইল বাড়ি বা ‘কারাভান’ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে বলে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে।
‘গাজাকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত করার পরিকল্পনা’
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গবেষক আহমেদ আল-আতাওনেহের মতে, ‘গ্রিন রাফাহ’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে গাজাকে একাধিক বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে সেগুলোর ওপর ইসরায়েলের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের সামনে কার্যত তিনটি পথ থাকবে—ইসরায়েলি নীতির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করা, প্রতিরোধ করলে মৃত্যু বা কারাবরণের মুখোমুখি হওয়া, অথবা দেশত্যাগ করা।
আল-আতাওনেহ বলেন, মানবিক সহায়তার নামে এসব উদ্যোগ বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বল করার কৌশল হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের কেবল ‘বাসিন্দা’ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তাদের জাতীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটি আড়াল হয়ে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের ঐকমত্যের বাইরে কোনো আরব দেশ এ ধরনের প্রকল্পে যুক্ত হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা ইসরায়েলি নীতিকেই সহায়তা করতে পারে।
অস্থায়ী আবাসন আটকে রাখার অভিযোগ
ফিলিস্তিনি গবেষক মোহাম্মদ হামেদ আল-আইলা বলেন, গত বছর মিসরের শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মানবিক প্রোটোকলে অস্থায়ী আবাসন ও বেসামরিক অবকাঠামো মেরামতের ব্যবস্থা করার কথা ছিল।
কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ১০ মাস পরও ইসরায়েল এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল-আইলার দাবি, গাজায় কারাভান বা অস্থায়ী বাড়ি প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম বিলম্বিত করা ইসরায়েলের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে গাজার মানবিক সংকটকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
আল-আতাওনেহের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থও এখানে ভূমিকা রাখতে পারে। ইসরায়েলের আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু তার ডানপন্থি জোটকে ধরে রাখতে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতির লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলে তিনি মনে করেন।
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী নিয়েও বিতর্ক
এদিকে গাজায় সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) মোতায়েনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কো ও উগান্ডার মতো দেশ থেকে প্রায় ২০০ জন করে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রাথমিক পরিকল্পনায় যে বড় আকারের বহুজাতিক বাহিনীর কথা বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য এই সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম।
আল-আইলার মতে, সীমিতসংখ্যক সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে প্রকাশ্যে গ্রহণ করলেও বাস্তবে সেটির কার্যকারিতা সীমিত রাখার ইসরায়েলি কৌশলকে প্রতিফলিত করতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বড় মতবিরোধ রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চান, এই বাহিনী তাদের সুরক্ষা দেবে এবং ইসরায়েলি দখলদারত্ব থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে ইসরায়েল এই বাহিনীকে হামাস নিরস্ত্রীকরণ ও প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আল-আইলা বলেন, আন্তর্জাতিক বাহিনী যদি ইসরায়েলি নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে কাজ করে, তাহলে সেটিকে দখলদারত্ব অব্যাহত রাখার একটি ‘আন্তর্জাতিক আবরণ’ হিসেবেই দেখা হবে।
রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজাকে পরিকল্পিতভাবে খণ্ডিত করার উদ্যোগ মোকাবিলায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আল-আতাওনেহ একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি প্রশাসন, জাতীয় ঐকমত্যের সরকার এবং প্রকৃত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি অবস্থান তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে দূরে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সমঝোতা ও পুনর্গঠনের পরিবর্তে যদি পৃথক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলা হয়, তাহলে গাজা ভবিষ্যতে আরও বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে পরিণত হতে পারে।
দক্ষিণ গাজার একটি নির্ধারিত এলাকায় অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ‘গ্রিন রাফাহ’ নামে পরিচিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গাজার বাস্তবতা পরিবর্তন করে অঞ্চলটিকে স্থায়ীভাবে খণ্ডিত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সমর্থনে নেওয়া এই প্রকল্পটি দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এলাকাটি ইসরায়েলের একতরফাভাবে নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর কাছে অবস্থিত। এই রেখাটি কার্যত ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত একটি বাফার জোন হিসেবে কাজ করছে, যার কারণে ফিলিস্তিনিদের বসবাসের এলাকা আরও সংকুচিত হচ্ছে।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও রোববার জানায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় প্রকল্পটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহায়তায় পরিচালিত একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর লক্ষ্য হামাসের প্রভাবমুক্ত এলাকায় অস্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
প্রকল্পের আওতায় পানি, পয়োনিষ্কাশন ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো স্থাপনের কাজ ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা রয়েছে। এসব কাজে যুক্ত ফিলিস্তিনি শ্রমিকদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া প্রকল্প এলাকায় মোবাইল বাড়ি বা ‘কারাভান’ প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্তত নভেম্বর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকতে পারে বলে ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে।
‘গাজাকে বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত করার পরিকল্পনা’
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গবেষক আহমেদ আল-আতাওনেহের মতে, ‘গ্রিন রাফাহ’-এর মতো প্রকল্পের মাধ্যমে গাজাকে একাধিক বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে ভাগ করে সেগুলোর ওপর ইসরায়েলের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনিদের সামনে কার্যত তিনটি পথ থাকবে—ইসরায়েলি নীতির কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করা, প্রতিরোধ করলে মৃত্যু বা কারাবরণের মুখোমুখি হওয়া, অথবা দেশত্যাগ করা।
আল-আতাওনেহ বলেন, মানবিক সহায়তার নামে এসব উদ্যোগ বাস্তবে ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে দুর্বল করার কৌশল হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের কেবল ‘বাসিন্দা’ হিসেবে বিবেচনা করা হলে তাদের জাতীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্নটি আড়াল হয়ে যায় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের ঐকমত্যের বাইরে কোনো আরব দেশ এ ধরনের প্রকল্পে যুক্ত হলে তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা ইসরায়েলি নীতিকেই সহায়তা করতে পারে।
অস্থায়ী আবাসন আটকে রাখার অভিযোগ
ফিলিস্তিনি গবেষক মোহাম্মদ হামেদ আল-আইলা বলেন, গত বছর মিসরের শারম আল-শেখে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির মানবিক প্রোটোকলে অস্থায়ী আবাসন ও বেসামরিক অবকাঠামো মেরামতের ব্যবস্থা করার কথা ছিল।
কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের প্রায় ১০ মাস পরও ইসরায়েল এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আল-আইলার দাবি, গাজায় কারাভান বা অস্থায়ী বাড়ি প্রবেশে বাধা দেওয়া এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম বিলম্বিত করা ইসরায়েলের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। এর মাধ্যমে গাজার মানবিক সংকটকে রাজনৈতিক চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে ফিলিস্তিনিদের অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য করার পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বলে তার অভিযোগ।
আল-আতাওনেহের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থও এখানে ভূমিকা রাখতে পারে। ইসরায়েলের আসন্ন অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহু তার ডানপন্থি জোটকে ধরে রাখতে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও বাস্তুচ্যুতির লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন বলে তিনি মনে করেন।
গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী নিয়েও বিতর্ক
এদিকে গাজায় সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী বা ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) মোতায়েনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরক্কো ও উগান্ডার মতো দেশ থেকে প্রায় ২০০ জন করে সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রাথমিক পরিকল্পনায় যে বড় আকারের বহুজাতিক বাহিনীর কথা বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য এই সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম।
আল-আইলার মতে, সীমিতসংখ্যক সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে প্রকাশ্যে গ্রহণ করলেও বাস্তবে সেটির কার্যকারিতা সীমিত রাখার ইসরায়েলি কৌশলকে প্রতিফলিত করতে পারে।
তবে আন্তর্জাতিক বাহিনীর দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়েই সবচেয়ে বড় মতবিরোধ রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা চান, এই বাহিনী তাদের সুরক্ষা দেবে এবং ইসরায়েলি দখলদারত্ব থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে ইসরায়েল এই বাহিনীকে হামাস নিরস্ত্রীকরণ ও প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যবহারের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আল-আইলা বলেন, আন্তর্জাতিক বাহিনী যদি ইসরায়েলি নিরাপত্তা কাঠামোর অধীনে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে কাজ করে, তাহলে সেটিকে দখলদারত্ব অব্যাহত রাখার একটি ‘আন্তর্জাতিক আবরণ’ হিসেবেই দেখা হবে।
রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান
বিশেষজ্ঞদের মতে, গাজাকে পরিকল্পিতভাবে খণ্ডিত করার উদ্যোগ মোকাবিলায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আল-আতাওনেহ একটি ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি প্রশাসন, জাতীয় ঐকমত্যের সরকার এবং প্রকৃত অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তবে ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার অভিযোগ, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও) ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি অবস্থান তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে দূরে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক সমঝোতা ও পুনর্গঠনের পরিবর্তে যদি পৃথক প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা অঞ্চল গড়ে তোলা হয়, তাহলে গাজা ভবিষ্যতে আরও বিচ্ছিন্ন ও নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডে পরিণত হতে পারে।