মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ এএম

জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন পুতুল

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
জালিয়াতির অভিযোগের মুখে ডব্লিউএইচওর পদ ছাড়লেন পুতুল
ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুসের কাছে পদত্যাগপত্র দেন তিনি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের হাতে আসা পদত্যাগপত্র অনুযায়ী, সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। ডব্লিউএইচও এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিভিন্ন তদন্তের মধ্যে তিনি এ সিদ্ধান্ত নিলেন।

পদত্যাগপত্রে সায়মা অভিযোগ করেন, ডব্লিউএইচওর নেতৃত্ব তার দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিকভাবে বাধা দিয়েছে। এ কারণে সংস্থাটির মহাপরিচালকের ওপর নিজের আস্থা হারিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রায় এক বছর বেতন না পাওয়ায় তার আর্থিক অবস্থার অবনতি হয়েছে বলে জানান।

এর আগে গত ২০ আগস্ট তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন সায়মা।

রয়টার্সের সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে ডব্লিউএইচও। আগামী ১২ অক্টোবর নতুন মনোনয়ন ঘোষণা এবং ডিসেম্বরে প্রার্থীদের আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচন হতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কীভাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সায়মা

২০২৩ সালের নভেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক কমিটির ৭৬তম অধিবেশনে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন সায়মা ওয়াজেদ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাঁচ বছরের মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।

তবে ওই বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সায়মা ওয়াজেদের অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি মামলা করা হয়।

২০২৫ সালের ১১ জুলাই ডব্লিউএইচও তাকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠায়। এর আগে তাকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশও দিয়েছিল ঢাকার একটি আদালত। একই বছরের নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত প্লট দুর্নীতির মামলায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়।

ডব্লিউএইচওর অভিযোগ অস্বীকার

চলতি বছরের ৩ জুলাই সায়মা ওয়াজেদের আইনজীবীদের দেওয়া চিঠির বরাতে জানা যায়, ডব্লিউএইচও তার বিরুদ্ধে চীন সফরে আর্থিক অনিয়ম এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা। তার দাবি, চীন সফরের ক্ষেত্রে ৯০১ ডলারের বিলসংক্রান্ত বিষয়টি একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুল ছিল।

শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি সম্মানসূচক ডক্টরেট পেয়েছেন এবং বিষয়টি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক আগে থেকেই জানতেন।

বাংলাদেশে জমি দখলের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন সায়মা। তার দাবি, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি অর্জন করেছিলেন এবং একটি বিশেষ আইনের আওতায় জমিটির বৈধ অধিকারী ছিলেন।

নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রস্তুতি

রয়টার্সের দুই কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, সায়মা ওয়াজেদকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ডব্লিউএইচও। তার পদত্যাগের পর এখন নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটে পাঁচ বছরের জন্য আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতিতে এ পদটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

২০২৩ সালের নির্বাচনে ১০ ভোটের মধ্যে ভারতের ভোটসহ আটটি ভোট পেয়েছিলেন সায়মা ওয়াজেদ। 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।