মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

রিপাবলিকানরা জিতলে নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
রিপাবলিকানরা জিতলে নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার দেবেন ট্রাম্প
টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান সম্মেলনে বক্তব্য শেষে নাচছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে প্রায় দুই ঘণ্টার বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়নে এক ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণাটি তাৎক্ষণিকভাবে অর্থনৈতিক ও নৈতিক নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সম্মেলনে উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেন, রিপাবলিকানরা নির্বাচনে জয়ী হলে ভোটাররাও সেই জয়ের সুফল পাবেন। একই সঙ্গে তিনি ভোটারদের এমনভাবে ভোট দিতে আহ্বান জানান, যেন তিনি নিজেই ব্যালটে প্রার্থী হয়েছেন।

ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে সফল সময়গুলোর একটি বলে দাবি করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে তিনি ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বর্তমানে প্রায় ৩৮ শতাংশে রয়েছে বলে বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে। এ কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে থাকা অনেক রিপাবলিকান প্রার্থী সম্মেলনে অংশ নেননি। তবু ট্রাম্প মনে করেন, নভেম্বরের নির্বাচনে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, রিপাবলিকানরা হেরে গেলে সীমান্ত নিরাপত্তা, করছাড়, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।

বক্তব্যে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গও আনেন ট্রাম্প। তার দাবি, তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনের খুব কাছাকাছি ছিল। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে তেলের দাম বেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও তার বক্তব্যে উঠে আসে।

এদিকে রিপাবলিকানদের এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে দলটির নেতাদের পাশাপাশি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন প্রার্থী ও মন্ত্রিসভার সদস্য বক্তব্য দেন। সম্মেলনের আয়োজকরা আগে বলেছিলেন, এর মূল লক্ষ্য হবে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সীমান্ত সুরক্ষিত করা, জননিরাপত্তা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মী ও পরিবারগুলোর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া।

তবে বক্তাদের অনেকেই ডেমোক্র্যাটদের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ট্রান্সজেন্ডার অধিকার ইস্যুটি বক্তৃতাগুলোতে গুরুত্ব পায়। এতে ধারণা করা হচ্ছে, নভেম্বরের নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানরা সংস্কৃতিগত বিভাজনমূলক বিষয়গুলোকে প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান কেন মার্টিন সম্মেলনটির সমালোচনা করে এটিকে প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষার আয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, ট্রাম্পের নেতৃত্ব রিপাবলিকানদের পরাজয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি ক্রীড়া জগতের কয়েকজন তারকাকেও মঞ্চে দেখা যায়। ইউএফসি যোদ্ধা বো নিকাল ও জাস্টিন ‘দ্য হাইলাইট’ গেথজি ট্রাম্পকে পরিচয় করিয়ে দেন।

বুধবারের বক্তব্য শেষে ট্রাম্প বৃহস্পতিবার আবারও বক্তব্য দেবেন বলে জানান। তবে সেটি তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।