রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় একটি মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক চন্দ্র পালের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সহপাঠী ও পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে তিনি বেশ কিছুদিন ধরে হতাশায় ছিলেন।
মঙ্গলবার রাতের দিকে বংশাল থানার চাঁনখারপুল এলাকার বি কে গাঙ্গুলি লেইনের একটি ভবনের চতুর্থ তলার মেস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বন্ধুরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, অনিকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে হতাশায় ভুগছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
অনিকের মেসের সহবাসী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, বেশ কিছুদিন ধরে অনিকের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। পারিবারিক ও আর্থিক নানা সমস্যার পাশাপাশি প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর তিনি আরও বেশি চুপচাপ হয়ে পড়েছিলেন।
জয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর অনিকের মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর থেকে তিনি মেসে অনেকটা একাকী থাকতেন।
অনিকের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে জয় বলেন, সোমবার থেকেই তার কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক সহপাঠী ফোন করে তাকে জানায়, অনিককে কল করেও পাওয়া যাচ্ছে না।
পরে জয় ও আরেক বন্ধু অনিকের কক্ষে গিয়ে দরজায় অনেকক্ষণ ধাক্কা দিলেও কোনো সাড়া পাননি। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে তারা অনিককে ফ্যানের সঙ্গে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখেন।
এরপর দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে কয়েকজন বন্ধু দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। রাত সোয়া ১২টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অনিকের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। স্বজনরা ঢাকায় এসে প্রয়োজনীয় লিখিত আবেদন করলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
২১ বছর বয়সী অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ড্রয়িং অ্যান্ড পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবাস পাল। তিনি জানান, অনিকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।