মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:২৫ পিএম

৭ মার্চ ও পাকিস্তানি আত্মসমর্পণের স্থানে বসছে ফোয়ারা

জাতীয়
Sub Editor
৭ মার্চ ও পাকিস্তানি আত্মসমর্পণের স্থানে বসছে ফোয়ারা
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে নির্মাণাধীন এলাকা।-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চের ভাষণ এবং ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানকে ঘিরে নির্মাণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ৭ মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক থ্রিডি উপস্থাপনাতেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৬ আগস্টের অগ্রগতি প্রতিবেদনে প্রকল্পটি রিস্কোপিং ও রিপারপসিংয়ের মাধ্যমে এসব পরিবর্তনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাব আবারও সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।

২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় ৭ মার্চের ভাষণের স্থান এবং ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে দুটি ভাস্কর্য নির্মাণের কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ওই ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাস্কর্যের পরিবর্তে দুই ঐতিহাসিক স্থানে ওয়াটার ফাউন্টেন নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এজন্য প্রকল্পের নকশায় সংশোধন আনার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে ৭ মার্চের ভাষণের হলোগ্রাফিক থ্রিডি উপস্থাপনার বিষয়বস্তু পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯৭ কোটি টাকা। মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং ভৌত অগ্রগতি ৯৪ শতাংশ।

প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের কয়েকটি স্থাপনা ও ভৌত কাজের নকশায় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। তবে এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থান দুটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এসব স্থানের পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। প্রকল্পের নথিতে স্বাক্ষরকারী উপসচিব পলি কর তাঁর স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি নেই বলে জানান।

বর্তমানে ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক স্থান দুটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উত্তর-পশ্চিম অংশে রয়েছে। সেখানে ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য শুরু করা আগের কাজের কিছু অবকাঠামো এখনো দৃশ্যমান। নির্মাণাধীন অংশটি বর্তমানে টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা রয়েছে। 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।