মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ: কানাডার পণ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধ: কানাডার পণ্যে নতুন নিষেধাজ্ঞা
২০২৫ সালে কানাডার মোট অ্যালকোহল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে, যার বড় অংশ এসেছে অন্টারিও থেকে।-ছবি/ বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার কয়েকটি পণ্য আমদানিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে মদ, দুগ্ধজাত পণ্য ও মোটরসাইকেল। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নিল ট্রাম্প প্রশাসন।

কানাডা চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পণ্যে শুল্ক আরোপ করার পর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে কানাডার পক্ষ থেকে আপাতত নতুন করে কোনো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।

মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া প্রায় ১০০ কোটি কানাডিয়ান ডলার মূল্যের কানাডীয় মদ এবং প্রোটিন পাউডার তৈরিতে ব্যবহৃত হুই পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মোটরসাইকেল রপ্তানিও প্রভাবিত হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কানাডা প্রায় ৫ হাজার মোটরসাইকেল যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেছিল, যার মূল্য ছিল প্রায় ১২ কোটি কানাডিয়ান ডলার।

গত ৮ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত কয়েকটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ, গাড়ি ও অ্যালকোহল খাতের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি এই পদক্ষেপের কথা জানান।

সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প কানাডার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অন্যায্য আচরণের’ অভিযোগ করেন।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর তুলনামূলকভাবে সীমিত হবে। তবে যেসব ব্যবসা ও খাত সরাসরি আক্রান্ত হবে, সেগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

কানাডার মদ উৎপাদনকারীদের সংগঠন স্পিরিটস কানাডা জানিয়েছে, নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। ২০২৫ সালে কানাডার মোট মদ রপ্তানির প্রায় ৯৩ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিভিন্ন পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, মদ, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম। পাশাপাশি কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্কও আরোপ করা হয়েছে।

জবাবে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৭০০টির বেশি পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে। নির্দিষ্ট ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম পণ্যের ওপরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে দেশটি। দেশটির অধিকাংশ প্রদেশ যুক্তরাষ্ট্রের মদ বিক্রিও বন্ধ করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতিতে আমদানি শুল্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুক্তি, শুল্কের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় পণ্য কেনায় ভোক্তাদের উৎসাহিত করা যায়। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এসব শুল্ক সাধারণ ভোক্তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়েছে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।