মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে ফোয়ারা? ‘সঠিক নয়’: মন্ত্রী

জাতীয়
Sub Editor
আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে ফোয়ারা? ‘সঠিক নয়’: মন্ত্রী
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।ছবি: সংগৃহীত

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এমন খবর নাকচ করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

বুধবার সচিবালয়ে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্প কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে সরকার আলোচনা করছে। তবে আত্মসমর্পণের স্থানে ফোয়ারা নির্মাণ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বা আলোচনা হয়নি।

এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে প্রস্তাবিত ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

মন্ত্রী অবশ্য এখন প্রতিবেদনটির তথ্য অস্বীকার করলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন।

পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া এ বিষয়ে উপসচিব পলি করের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। সংশ্লিষ্ট নথিতে পলি করের স্বাক্ষর রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি না থাকার কথা জানালেও নথিতে নিজের স্বাক্ষরের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ’ প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ এবং পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানকে ঘিরে দুটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং নির্মাণাধীন স্থাপনাগুলোতে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের মার্চে অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই দুটি ভাস্কর্য নির্মাণ করা হবে না।

এরপর দুটি স্থানে পানির ফোয়ারা নির্মাণের বিষয়ে সরকারি নথিতে উদ্যোগের তথ্য পাওয়া যায়। তবে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং এর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার আলোচনা বা চিন্তাভাবনার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

আহমেদ আযম খান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওই স্থানগুলোতে কী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাধীনতা স্তম্ভের মূল চেতনা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পটি আগের অবস্থায় থাকবে নাকি পরিবর্তন করা হবে—এ বিষয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ভবিষ্যতে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজেও এ বিষয়ে একটি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, ৭ মার্চের ভাষণ ও পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের স্থানে ভাস্কর্যের পরিবর্তে পানির ফোয়ারা বসানোর কোনো সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় নেয়নি।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ বিষয়ে কিছু চিন্তাভাবনা বা পরামর্শ থাকতে পারে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাধীনতা স্তম্ভ প্রকল্পটি নিয়ে পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।