ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আড়াই বছর বয়সী সৎছেলেকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত সৎমা আকলিমা খাতুন। পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশুটির প্রতি ক্ষোভ থেকে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহের ৪ নম্বর আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আকলিমা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) দেবাশীষ কর্মকার। তিনি জানান, আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন অভিযুক্ত আকলিমা।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর দত্তবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওয়াসকুরুনি ইসলাম ওই গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের প্রথম পক্ষের সন্তান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, জবানবন্দিতে আকলিমা উল্লেখ করেন, পারিবারিক কলহের কারণে স্বামীর আগের পক্ষের সন্তানের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। ভবিষ্যতে ঝামেলা এড়ানোর চিন্তা থেকে শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা তরল কীটনাশক চামচে করে শিশুটির মুখে ঢেলে দেন আকলিমা। বিষক্রিয়ায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে ছটফট করতে থাকে।
শিশুটির কাশির শব্দ শুনে তার দাদি আছিয়া আক্তার ঘরে প্রবেশ করেন। পরে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাইরে আসার সময় তার মুখ থেকে বিষের গন্ধ পান। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত শিশুটিকে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিহত শিশুর মা শেফালী আক্তার বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে পুলিশ আকলিমা খাতুনকে এবং ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে শিশুটির বাবা আব্দুল কাদিরকে গ্রেপ্তার করে।