মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৭ এএম

সৌদি আরবে ফ্লাইট বিপর্যয়, ঢাকার ১০০ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত

জাতীয়
Sub Editor
সৌদি আরবে ফ্লাইট বিপর্যয়, ঢাকার ১০০ ফ্লাইট বাতিল-স্থগিত
সৌদি আরবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা থেকে ১০০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ও সংশ্লিষ্ট রুটের ১০০টি ফ্লাইট বাতিল অথবা স্থগিত করা হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী। তাঁদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি থাকা প্রবাসী কর্মীরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, বাতিল ও স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্স বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহার করে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে বিকল্প ফ্লাইটে পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অনেক যাত্রীর যাত্রা নিশ্চিত করতে দেরি হচ্ছে।

বাতিল হওয়া সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের সাতটি রয়েছে।

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দায় সরাসরি এবং ট্রানজিটের মাধ্যমে ফ্লাইট পরিচালিত হয়। তবে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে, মদিনা বিমানবন্দরে কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দা বিমানবন্দরেও সাময়িক বিঘ্নের পর উড়োজাহাজের ওঠানামা চলছে।

সরকারের নির্দেশনা অনুসারে, রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের বিকল্প হিসেবে মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে নেওয়ার ব্যবস্থা করছে এয়ারলাইন্সগুলো। তবে নতুন রুটে আগে থেকেই বুকিং থাকায় আসনসংকট দেখা দিয়েছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক কর্মকর্তা জানান, যেসব যাত্রীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে, তাঁদের টিকিট পরিবর্তনে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পাঠাতে গিয়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বুকিংয়ের পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরও কয়েকজন যাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। পরে তাঁদের পরবর্তী ফ্লাইটে সৌদি আরবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এয়ারলাইন্স-সংশ্লিষ্টদের মতে, বিকল্প ফ্লাইটে আসন খালি থাকার ওপরই টিকিট পরিবর্তনের সুযোগ নির্ভর করছে। আগে থেকে বুকিং করা যাত্রীদের পাশাপাশি বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের জায়গা দিতে গিয়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে থাকা প্রবাসী কর্মীদের দ্রুত যাত্রা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।