মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৬ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ পিএম

দেশে ফেরার আগে বড় পদক্ষেপ: আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলতে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার চিঠি

জাতীয়
Sub Editor
দেশে ফেরার আগে বড় পদক্ষেপ: আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা তুলতে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার চিঠি

জাতিসংঘের দ্বারস্থ হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা! বাংলাদেশে নিজ দল আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে এবার জাতিসংঘের বিশেষ র‍্যাপোর্টারদের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। দেশে ফেরার আগে আন্তর্জাতিক পরিসরে তার এই পদক্ষেপকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি বড় কৌশলগত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল'-এর একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। চিঠিতে শেখ হাসিনা স্পষ্ট ভাষায় এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারও শুধু বহালই রাখেনি, বরং সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে একে পাকাপোক্ত আইনি বৈধতা দিয়েছে।


প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গত ২০২৫ সালের ১২ মে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কঠোর ধারায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরিবর্তে তা স্থায়ী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।


চিঠিতে এক বিস্ফোরক দাবি তুলে ধরে শেখ হাসিনা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি বাইরে রাখা হয়েছিল, যার ফলে এই নির্বাচন কোনোভাবেই অন্তর্ভুক্তিমূলক বা সর্বজনীন ছিল না। দেশের অন্যতম বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনের বাইরে রাখায় বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আজ চরম প্রশ্নের মুখে পড়েছে।


শুধু তাই নয়, এই নিষেধাজ্ঞাকে তিনি বাংলাদেশের সংবিধানে স্বীকৃত মতপ্রকাশ, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং সংগঠন করার মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি, দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং নিষেধাজ্ঞার যাঁতাকলে পড়ে আইনি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম আইনি প্রতিবন্ধকতার কথাও চিঠিতে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন তিনি।


চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতাসংক্রান্ত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে, বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সব দলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষে জাতিসংঘের প্রকাশ্য বিবৃতিও দাবি করেছেন তিনি।


সম্প্রতি ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট কাটাতে সংলাপ ও জাতীয় পুনর্মিলনের এক বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মতে, এ ধরনের অর্থবহ রাজনৈতিক সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করতে হলে সবার আগে দলটির ওপর থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা অপরিহার্য।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।