দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় লালমনিরহাট জেলায় গড় পাসের হার ৪৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলা থেকে মোট ৭ হাজার ৪৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৩ হাজার ৩৩৫ জন ছাত্র ও ৪ হাজার ১২০ জন ছাত্রী। পরীক্ষায় মোট উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১ হাজার ৩৬৩ জন এবং ছাত্রী ২ হাজার ১১৯ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪০ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং ছাত্রীদের ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। জেলায় এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০২ জন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ৩৬ জন ছাত্র ও ৬৬ জন ছাত্রী।
শূন্য পাসের হারের চিত্র
জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। বোর্ডের অধীন আট জেলার ৪৯টি প্রতিষ্ঠানের এমন বিপর্যয়ের মধ্যে লালমনিরহাটের ছয়টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলায় তিনটি, হাতীবান্ধায় দুটি ও আদিতমারী উপজেলায় একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো
- হাতীবান্ধা মডেল কলেজ (১১ জন পরীক্ষার্থী)।
- আমিনুর রহমান কলেজ, হাতীবান্ধা (১ জন পরীক্ষার্থী)।
- সোনারহাট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কালীগঞ্জ (২ জন পরীক্ষার্থী)।
- দুহুলী এসসি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কালীগঞ্জ (১ জন পরীক্ষার্থী)।
- দক্ষিণ ঘনশ্যাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কালীগঞ্জ (১ জন পরীক্ষার্থী)।
- গন্ধমরুয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আদিতমারী (২ জন পরীক্ষার্থী)।
ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে নিয়মিত পাঠদানে ঘাটতি ও শিক্ষকসংকটকে দায়ী করেছেন অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক স্বল্পতার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মন্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। সামগ্রিক পাসের হারে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের আটটি জেলার মধ্যে লালমনিরহাটের অবস্থান বর্তমানে তৃতীয়।