মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন জনপ্রতিনিধি আমিনুল

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন জনপ্রতিনিধি আমিনুল

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ ২৭ বছরের বিরতি কাটিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ৪৭ বছর বয়সে অর্জিত তার এই সাফল্যে এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ ও প্রশংসার জোয়ার বইছে। গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে তিনি জিপিএ ৪.৪৬ অর্জন করেছেন। তবে মনের ভেতর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটি কখনো হারিয়ে যায়নি। বয়স তখন ২০ বছর। এরপর কেটে গেছে ২৭ বছর।

১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর জীবিকার প্রয়োজনে আমিনুলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় সংসার সামলানো এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সেবা করার ব্যস্ততায় আর পড়াশোনার টেবিলে ফেরা সম্ভব হয়নি। তবে নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন তিনি। সেই তাগিদ থেকেই বয়সের বাধা জয় করে তিনি ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল এলাকার সিটি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের নানা সমস্যা ও প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়ে শিক্ষার গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করেন আমিনুল। সেই তাগিদ থেকেই বয়সের বাধা উপেক্ষা করে আবারও শিক্ষাজীবনে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত সেই পরিশ্রমের সুফলও পেয়েছেন।

একদিকে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবে জনসেবার গুরুদায়িত্ব, অন্যদিকে পারিবারিক কাজ—এরই ফাঁকে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়েছেন তিনি।

আমিনুল জানান, দিনের বেলায় মানুষের কাজে ব্যস্ত থেকে রাতে পড়াশোনায় সময় দিতেন তিনি। তার মতে, শিক্ষার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। যারা বিভিন্ন কারণে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন, তাদের জন্য এই অর্জন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি শুধুমাত্র এইচএসসি পাসেই থেমে থাকতে চান না; বরং সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে স্নাতক পর্যায়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন। নিয়মিত পড়াশোনা ও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছিলেন। জনপ্রতিনিধির মতো দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও যে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, সেটি প্রমাণ করাই ছিল তার অন্যতম উদ্দেশ্য।

আমিনুলের এই সাফল্যে গর্বিত তার কর্মস্থল মাওনা ইউনিয়ন পরিষদ। পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান বলেন, এটি শুধু আমিনুল ইসলামের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, পুরো ইউনিয়ন পরিষদের জন্যই গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঞা জানান, এই বয়সে পড়াশোনা করে ভালো ফলাফল অর্জন নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং তার এ সাফল্য বর্তমান সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।