ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও এক দফা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি ওজনের সিলিন্ডার কিনতে গ্রাহকদের এখন থেকে ২ হাজার ৬০ টাকা গুনতে হবে, যা আগে ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সোমবার (০২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এক প্রজ্ঞাপনে দর বৃদ্ধির এ ঘোষণা দেয়। এই আদেশ ওই দিন রাত আটটা থেকেই বলবৎ হয়েছে। ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা এর আগে ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
কমিশনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত দুই মাসের ব্যবধানে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে যার দাম নির্ধারিত ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা, দুই মাসের ব্যবধানে তাতে মোট ৪৭৫ টাকা যুক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য আকারের সিলিন্ডারের দরও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডার ৯৪৪ টাকা, সাড়ে ১২ কেজি ২ হাজার ১৪৬ টাকা, ১৫ কেজি ২ হাজার ৫৭৫ টাকা, ১৬ কেজি ২ হাজার ৭৪৭ টাকা, ১৮ কেজি ৩ হাজার ৯০ টাকা, ২০ কেজি ৩ হাজার ৪৩৪ টাকা, ২২ কেজি ৩ হাজার ৭৭৭ টাকা, ২৫ কেজি ৪ হাজার ২৯২ টাকা, ৩০ কেজি ৫ হাজার ১৫০ টাকা, ৩৩ কেজি ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা, ৩৫ কেজি ৬ হাজার ৯ টাকা এবং সর্ববৃহৎ ৪৫ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭ হাজার ৭২৬ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
চলতি বছরে দেশের এলপিজি বাজারে ধারাবাহিক দর উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। বছরের শুরুতে অর্থাৎ জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে সেটি ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকায়। তবে মার্চে সামান্য কমে দাম হয়েছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা। এরপর এপ্রিলে বড় ধরনের লাফ দিয়ে সিলিন্ডারপ্রতি দাম ৩৮৭ টাকা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৭২৮ টাকায় এবং মে মাসে আরও ২১২ টাকা যুক্ত হয়ে তা পৌঁছায় ১ হাজার ৯৪০ টাকায়।
মে মাসের পর বাজার বেশ কিছু দিন নিম্নমুখী ধারায় ছিল। জুনে ৫৫ টাকা কমে দাম হয় ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। জুলাই মাসে বড় পতনের মুখ দেখে এলপিজি; এক ধাক্কায় ৩৫৭ টাকা কমে তা নামেন আসে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়। তবে পতন সামলে আগস্টে আবারও ৭০ টাকা বেড়ে সিলিন্ডারের দর দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে তা হয়েছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।