মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:২৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সৌজন্য বৈঠক

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা মন্ত্রীর সৌজন্য বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং। বুধবার ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় বাংলাদেশ ও চীনের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন যুগের সূচনা নিয়ে দেওয়া যৌথ ঘোষণার প্রসঙ্গটি উঠে আসে। লিউ হাইশিং আশা প্রকাশ করেন যে, এই ঘোষণার ভিত্তিতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রতি চীনের অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার বিষয়েও তিনি আস্থা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের মজবুত ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই সম্পর্ক দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি নতুন প্রজন্মের হাত ধরে এই বন্ধুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যকে আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচির প্রসারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচি কৃষকের উপকারে আসার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়। লিউ হাইশিং বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং দুই দলের সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর এবং আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানানো হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে অবস্থানরত ১৩ লাখ রোহিঙ্গার কারণে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের কথা তুলে ধরেন। তিনি এই সংকটের টেকসই সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে লিউ হাইশিং জানান, চীন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের বিষয়টি তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংকে অবহিত করবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে চীনা প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন এবং সিপিসি'র আন্তর্জাতিক বিভাগের মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।