মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:২০ এএম

শ্রমিকদের দাবি ঘিরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা: শ্রমমন্ত্রী

জাতীয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
শ্রমিকদের দাবি ঘিরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা: শ্রমমন্ত্রী

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিসমূহ সরকারের বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এসব দাবি মজুরি বোর্ডের সভায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং আলোচনার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) শ্রমিক ও মালিকপক্ষের মধ্যকার সংকট নিরসনের লক্ষ্যে আয়োজিত বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী শ্রমিক নেতাদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন বৃহস্পতিবার থেকেই কর্মীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান।

গাজীপুরে শ্রমিক নিহতের ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। শ্রম মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবারটিকে তাৎক্ষণিকভাবে এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর একটি বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টঙ্গীতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন পাওয়া গেছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই হাসপাতালটির নির্মাণ প্রকল্পের প্রক্রিয়াগত কাজ শুরু হবে।

চলমান অসন্তোষ নিরসনে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতৃবৃন্দ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর আন্তরিক সহযোগিতার প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষের সম্মিলিত চেষ্টায় কারখানাগুলোতে উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া নিরপরাধ শ্রমিকদের মামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে, তবে সহিংসতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মজুরি বোর্ডের অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত শনিবার রাতে শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই রোববার দুপুর ১২টার আগেই মজুরি বোর্ড গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী চার দিনের মধ্যে বোর্ডের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে। তিনি মনে করেন, শিল্পকারখানা সচল থাকলে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

দাবি আদায়ে নিয়মতান্ত্রিক পথ অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। সরাসরি কর্মবিরতি বা অচলাবস্থা তৈরির পরিবর্তে শ্রমিকদের যথাযথ পন্থায় দাবি তুলে ধরতে হবে। শিল্প খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

শিল্প খাত নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের গার্মেন্টস শিল্পকে অস্থিতিশীল করার কোনো অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। মালিকদের প্রতি তিনি সব কারখানা খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান এবং শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরার উৎসাহ দেওয়ার জন্য নেতাদের অনুরোধ করেন।

মজুরি বোর্ডের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, বোর্ডে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং তারা সুপারিশ মেনে নিতে সম্মত হয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থার জায়গা তৈরি করে শিল্পখাতের উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।