মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের জয় ও কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর দেশটির শেয়ারবাজার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বুধবার নির্বাচনের প্রভাব স্পষ্ট হওয়ার পর ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক দেড় হাজার পয়েন্টের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ও নাসডাক কম্পোজিট সূচকেও দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন। বিনিয়োগকারীদের ধারণা, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত শুল্ক আরোপ, ঘাটতি বাজেট এবং ইরান সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো এখন আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়বে। এতে প্রশাসনিক নীতিগত অনিশ্চয়তা কমে আসবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভক্ত সরকার বড় ধরনের নীতি পরিবর্তনের গতি কমিয়ে দিতে পারে। কংগ্রেসের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি ভারসাম্য তৈরি করবে। ডেমোক্র্যাটদের প্রবল উপস্থিতির কারণে ট্রাম্পের জন্য কর, ব্যয় ও বড় ধরনের কোনো নীতিগত পরিবর্তন সহজে অনুমোদন করিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। তবে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব সব খাতে সমান নয়। উদাহরণস্বরূপ, ডেমোক্র্যাটরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এবং ডিজিটাল সম্পদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দাবি তুলতে পারে, যা এসব খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রতিরক্ষা খাতের বিনিয়োগকারীরাও কিছুটা উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
বিশেষ করে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় কংগ্রেসে বাধার সম্মুখীন হতে পারে।
অন্যদিকে, তেলের বাজারে নির্বাচনের পর বড় ধরনের অস্থিরতা ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৮ শতাংশের বেশি কমে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অপরিশোধিত তেলের দামেও এ সময় বড় পতন ঘটে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয় ইরান সংঘাত নিরসনে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যে মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছিল, তা তেলের দাম কমার ফলে অনেকটা লাঘব হতে পারে।
জ্বালানি তেলের দাম কমলে সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবেন এবং পরিবহন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তেলের বাজারের এই ইতিবাচক ধারা দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। এই স্থিতিশীলতা অনেকাংশেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের ওপর নির্ভরশীল। ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম আবারও উর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বাজারের এই প্রাথমিক স্বস্তি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।