প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবির সুযোগ নিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে কলকাঠি নাড়ছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি বলেন, যারা অতীতে দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তারাই এখন গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বাইরে থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। কোনো শ্রমজীবী মানুষ বা শ্রমিক কখনোই তাদের নিজেদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করতে পারেন না। অথচ কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বিভিন্ন কারখানায় ভাঙচুর চালিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তারেক রহমান বলেন, কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি কিংবা আইনজীবী হবে।
শিল্পকারখানাগুলোকে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৫০ বছরে গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠান দেশের সম্পদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো শ্রমিক ভাই-বোন শিল্পের ক্ষতি করতে পারেন না। পোশাক শ্রমিকদের মজুরি সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার অবগত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবি পর্যালোচনার জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই নতুন নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে, যাতে শ্রমিকরা ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন। এ সময় বাগেরহাট জেলা বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তোমরা প্রত্যেকে একেকজন বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।
এর আগে বাগেরহাট থেকে খুলনায় আসার পথে রূপসার কুদির বটতলায় প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। খুলনা মহানগরীতে প্রবেশ করে ডাকবাংলা মোড়ে আয়োজিত আরেকটি পথসভায় তিনি ঘোষণা করেন যে, ফ্যাসিবাদের আমলে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল মিল-কারখানা পুনরায় চালু করা হবে। হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরণের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও তিনি ব্যক্ত করেন। মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের পরিচালনায় সেখানে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুলসহ মহানগর নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খুলনা প্রবেশের সময় রূপসা উপজেলার তিলক কুদির বটতলায় প্রটোকল ভেঙে মিশলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। হাত মেলালেন সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে।
বিকেল তিনটা ৪২ মিনিটে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা বাসটি খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের সামনে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী সার্কিট হাউজে না গিয়ে সরাসরি পথসভায় যোগ দেন। এর আগে সকালে তিনি মোংলা ও বাগেরহাটে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। বিকেলে স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৬-২০২৭ (সিজন-২)’-এর উদ্বোধনকালে তিনি শিশু-কিশোরদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই দেশ তাদের এবং তাদেরই একে গড়তে হবে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের। তিনি বলেন, শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায়ও পারদর্শী হতে হবে। বিশ্ব জয়ের লড়াইয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পাশাপাশি দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে নতুন প্রজন্মকে। নতুন প্রজন্মকে সেই অবস্থানে দেশকে নিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে স্কুল-কলেজ, খেলার মাঠ ও সংস্কৃতিচর্চার মঞ্চে আবার দেখা হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসরে ১৬ লাখ শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের প্রতিভা বিকাশে উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ তৈরি করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি ছয়-সাতটি বিদেশি ভাষার মধ্যে যেকোনো একটি শেখার পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, খেলাধুলা এবং তৃতীয় ভাষায় দক্ষ হতে পারলে বিশ্বের কোনো জাতিই বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। এমন এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে দেশের উদাহরণ দিতে গিয়ে অন্য কোনো রাষ্ট্রের নাম নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহফুজুল আলম খান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরসূচির অংশ হিসেবে তিনি হযরত খানজাহান আলী (রহ:)-এর মাজার জিয়ারত ও মোনাজাতে অংশ নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘একটি মহল গত ১৫-১৬ বছরে দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারেনি। সরকার এমন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যাতে শিশুরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও শিল্প-সংস্কৃতিতে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারে।