মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:২৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৮ এএম

বাংলাদেশ উপকূলের কাছে নজরদারি বাড়াতে হলদিয়ায় ভারতীয় নৌ ইউনিট

জাতীয়
Sub Editor
বাংলাদেশ উপকূলের কাছে নজরদারি বাড়াতে হলদিয়ায় ভারতীয় নৌ ইউনিট

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাঞ্চলে সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন একটি নৌ ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। আঞ্চলিক সামুদ্রিক পরিবেশে পরিবর্তন, বিশেষ করে চীনের বাড়তে থাকা নৌ তৎপরতা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা বাস্তবতার প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এটি পূর্ণাঙ্গ নৌঘাঁটি নয়; বরং একটি কার্যকরী নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে পরিচালিত হবে। এখানে মূলত ছোট ও দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন থাকবে, যা উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।

নৌবাহিনী হলদিয়া বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই ইউনিটটি দ্রুত চালু করতে চায়। প্রাথমিক ধাপে একটি পৃথক জেটি এবং প্রয়োজনীয় উপকূলীয় সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যাতে অতিরিক্ত ব্যয় কমানো যায়।

এই ইউনিটে ব্যবহৃত হবে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি) এবং প্রায় ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট। এসব নৌযান ঘণ্টায় প্রায় ৪০–৪৫ নট গতিতে চলতে পারে, যা উপকূলীয় টহল ও তাৎক্ষণিক অভিযানে বিশেষভাবে কার্যকর।

নৌযানগুলোতে আধুনিক সিআরএন-৯১ কামান সংযোজনের পাশাপাশি নজরদারি ও নির্ভুল আঘাতের জন্য ড্রোন বা মানববিহীন যান ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। এতে সামুদ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা আরও বাড়বে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনা নৌবাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি, সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের আশঙ্কা এবং ভারত-বাংলাদেশ উপকূলের অগভীর ও ব্যস্ত নৌপথ—এসব বিষয় এই সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে চীনের অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতাও ভারতের কৌশলগত ভাবনায় প্রভাব ফেলেছে।

নতুন ইউনিটটি আকারে ছোট হবে এবং সেখানে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক দায়িত্ব পালন করবেন। এটি পূর্ণ কমান্ড কাঠামোর বাইরে থেকে একটি স্বতন্ত্র অপারেশনাল ইউনিট হিসেবে কাজ করবে।

কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়া হুগলি নদীর দীর্ঘ নৌপথ এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ দেয়, যা সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দপ্তর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বড় নৌঘাঁটি রয়েছে। হলদিয়ার এই নতুন সংযোজনকে ভারতের সামগ্রিক নৌ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।