হজরত ইব্রাহিম (আ.)–এর কোরবানির সঙ্গে রাজনৈতিক ঘটনাকে তুলনা করে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির এটিএম আজম খান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত নিজের বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
শনিবার সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এটিএম আজম খান।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত একটি মতবিনিময় সভায় তিনি ওই মন্তব্য করেন। সভায় রংপুর-৪ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় এক মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এটিএম আজম খান একটি ফোনালাপের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজনৈতিক ‘কোরবানি’র সঙ্গে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও হজরত ইসমাইল (আ.)–এর কোরবানির প্রসঙ্গ টেনে আনেন। ওই বক্তব্যে তিনি নির্বাচনী পরিস্থিতিকে ‘এর চেয়েও বড় কোরবানি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সেটিকে জনগণের ত্যাগের সঙ্গে তুলনা করেন।
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন বক্তব্য প্রয়োজন ছিল এবং দুঃখকে শক্তিতে রূপান্তর করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।
এই মন্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এটিকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখেন এবং তার বক্তব্যকে অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন।
সমালোচনার মুখে পড়ে পরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এটিএম আজম খান বলেন, মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দলের এক ঊর্ধ্বতন নেতার বক্তব্য উদ্ধৃত করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দচয়ন ব্যবহার করেছেন। এটি তার ‘স্লিপ অব টাং’ থেকে হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)–এর কোরবানির ঘটনা ইসলামের এক অনন্য ত্যাগ ও আদর্শের দৃষ্টান্ত। এর সঙ্গে কোনো কিছুর তুলনা করা তার বিশ্বাস ও আকিদার পরিপন্থী। ওই বক্তব্যের জন্য তিনি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং যাদের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে, তাদের সবার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার অঙ্গীকারও করেন তিনি।
উল্লেখ্য, এটিএম আজম খান রংপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। তবে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির জোটগত সমঝোতার কারণে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেননি এবং জোটের প্রার্থী হিসেবে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন দেন।