বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় আসনে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পেলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তার করা আপিল আবেদন শুনানি শেষে রোববার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশনের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে মান্নার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, জ্যোতির্ময় বড়ুয়াসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
শুনানি শেষে সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা মামলার তথ্য গোপন ও হলফনামার সইয়ের তারিখের অসামঞ্জস্য দেখিয়ে মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন, যা ছিল অযৌক্তিক। তিনি বলেন, মান্নার নামে থাকা দুটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি কখনো অভিযুক্ত ছিলেন না। আর হলফনামায় সইয়ের তারিখ সংক্রান্ত যে গড়মিল ছিল, তা ছিল সামান্য ও অনিচ্ছাকৃত ভুল। এসব বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশন আপিল মঞ্জুর করেছে।
এর আগে বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। তিনি হলফনামার সইয়ের তারিখ, মামলার কাগজপত্রের ঘাটতি এবং সম্পদের বিবরণীতে ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
এদিকে ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতাও কাটিয়ে উঠেছেন মান্না। ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকায় তার নাম থাকায় নির্বাচন করতে বাধা তৈরি হলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং সিআইবিতে তার নাম স্থগিতের নির্দেশ দেন। ফলে ঋণসংক্রান্ত বাধা আর থাকেনি।
এরই মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনেও মান্নার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে তিনি ঢাকা-১৮ ও বগুড়া-২—দুই আসনেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, এবারের মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়েছে। আপিল শুনানি চলবে আগামী ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তির পর ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোটও।