মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২৫ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম

খাইবার-পাখতুনখোয়ায় আইইডি হামলায় ৬ পুলিশ নিহত, উত্তেজনা তীব্র

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
খাইবার-পাখতুনখোয়ায় আইইডি হামলায় ৬ পুলিশ নিহত, উত্তেজনা তীব্র

পাকিস্তানের খাইবার-পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী সহিংসতা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ট্যাংক জেলায় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে অন্তত ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) গোমাল এলাকা থেকে ট্যাংকের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানকে লক্ষ্য করে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, রাস্তায় আগে থেকেই পুঁতে রাখা আইইডি বিস্ফোরিত হলে সাঁজোয়া যানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই ছয় পুলিশ সদস্য প্রাণ হারান। বিস্ফোরণের পর পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়।

একই দিনে প্রদেশের আরেক জেলা লাক্কি মারওয়াতে পৃথক একটি আইইডি হামলার ঘটনা ঘটে। সদর থানার অধীন দারা টাং এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে বিস্ফোরণ ঘটানো হলে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশ জানায়, দারা টাং সেতুর কাছে ডিভাইসটি পুঁতে রাখা হয়েছিল। হামলার সময় জেলা পুলিশ কর্মকর্তা নিয়মিত টহলে ছিলেন এবং ওই পথ দিয়েই যাওয়ার কথা ছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর একদিন আগেই একই এলাকা থেকে অজ্ঞাত সশস্ত্র ব্যক্তিরা এক আইনজীবীকে অপহরণ করেছিল।

এদিকে আগের রাতেই খাইবার-পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি পুলিশ পোস্টে সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডোমেল থানার আওতাধীন নালা কাশো পুলিশ পোস্টে একাধিক দিক থেকে গুলি চালানো হয়। পুলিশ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং হামলাকারীদের পিছু হটতে বাধ্য করে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

চলমান পরিস্থিতির মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) পেশোয়ার ও খাইবার জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দুটি অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছয়জন ‘অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত’ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। সিটিডির ভাষ্য অনুযায়ী, পেশোয়ারের জাহির ঘাড়ির কাছে একটি কবরস্থান এলাকায় প্রথম অভিযান চালানো হয়, যেখানে তিনজন সন্ত্রাসী নিহত হয়। অন্যরা আবাসিক এলাকা ব্যবহার করে পালিয়ে যায়। পরে খাইবার জেলার জামরুদের নাকা কাল্লে এলাকায় শাহ কাস বাইপাস সড়কের কাছে দ্বিতীয় অভিযানে আরও তিন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ের পর থেকে এখন পর্যন্ত চার হাজারের বেশি পাকিস্তানি—যাদের মধ্যে সেনা, পুলিশ, কর্মকর্তা ও সাধারণ নাগরিক রয়েছেন—সন্ত্রাসী সহিংসতায় নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আরও সক্রিয় ও উৎসাহিত হয়েছে। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আফগান তালেবান এখনো এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

ট্যাংক জেলায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি নিহত পুলিশ সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

খাইবার-পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, পুলিশের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না এবং সন্ত্রাসীরা কখনোই শান্তি বিনষ্টের লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না। প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, খাইবার-পাখতুনখোয়া পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে সম্মুখসারিতে থেকে দেশের শান্তি রক্ষায় অবিচল রয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।