বাংলাদেশের হাইকোর্ট মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারাগুলো বহাল রেখেছে। আদালত উল্লেখ করেছেন, কোনো ব্যক্তির বিয়ে চলমান থাকা অবস্থায় সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ব্যতীত তিনি আর কোনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের বেঞ্চ সম্প্রতি রুল খারিজ করে এই রায় দেন।
২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। আইন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নতুন বিবাহের জন্য দরখাস্ত সাবমিট করতে হবে চেয়ারম্যানের নিকট। দরখাস্তে নতুন বিবাহের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি উল্লেখ থাকতে হবে।
সালিশি কাউন্সিল আবেদন পর্যালোচনা করে প্রস্তাবিত বিবাহের ন্যায়সঙ্গততা বিচার করে অনুমোদন দিতে পারে। অনুমোদন না থাকলে নতুন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে অপরাধীকে এক বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের মুখোমুখি হতে হয়। তদুপরি, বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের স্থগিত দেনমোহরের পুরো টাকা প্রদান বাধ্যতামূলক।
বিবেচিত ধারা অনুযায়ী:
১) কোনো ব্যক্তির বিয়ে বহাল থাকলে সালিশি কাউন্সিলের লিখিত অনুমতি ছাড়া নতুন বিবাহ হবে না।
২) আবেদন করতে হলে দরখাস্তে নতুন বিবাহের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী/স্ত্রীদের সম্মতি উল্লেখ করতে হবে।
৩) সালিশি কাউন্সিল দরখাস্ত গ্রহণের পর প্রার্থী ও বর্তমান স্ত্রীদের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনীত করে। প্রস্তাবিত বিবাহ ন্যায়সঙ্গত হলে অনুমোদন দেওয়া হয়।
৪) দরখাস্তের নিষ্পত্তি লিপিবদ্ধ হবে এবং পুনর্বিবেচনার জন্য সহকারী জজের নিকট আবেদন করা যেতে পারে।
৫) অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে:
ক) বর্তমান স্ত্রীদের স্থগিত দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে।
খ) অপরাধ প্রমাণিত হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা দশ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় হতে পারে।
২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছিল, পারিবারিক জীবন রক্ষার জন্য বহুবিবাহ নীতিমালা কেন করা হবে না এবং স্ত্রীদের সম অধিকার নিশ্চিত না করেই বহুবিবাহের অনুমতি কেন বৈধ।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট সেই রুল খারিজ করে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বহুবিবাহ সংক্রান্ত ধারা বহাল রাখেন।
আইনজীবী ইশরাত হাসান জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।