মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:২০ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম

বাবা জামায়াতে, ছেলে খেলাফতে—ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী

রাজনীতি
Sub Editor
বাবা জামায়াতে, ছেলে খেলাফতে—ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী
অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান রঞ্জন (বা থেকে), শাহরিয়ার জামান রানা (মাঝে) এবং আনিসুজ্জামান খোকন।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের সাম্প্রতিক জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান স্থানীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে থাকা তার বহু অনুসারী এ ঘটনায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রথমদিকে ধারণা করা হচ্ছিল, বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে তিনি জামায়াতের ব্যানারে নির্বাচনে নামতে পারেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজে প্রার্থী হচ্ছেন না। বরং তার ছেলে শাহরিয়ার জামান রানা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

একই সঙ্গে আখতারুজ্জামানের বড় ভাই, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী থেকে এ আসনে প্রার্থী হয়েছেন কটিয়াদি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল। কটিয়াদি ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে উভয় প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

একই পরিবারের সদস্যদের ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান এবং পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ‘মেজর রঞ্জন’ নামে পরিচিত আখতারুজ্জামানের এলাকায় এখনো প্রভাব রয়েছে। সংসদ সদস্য থাকাকালে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টকশোতে সক্রিয়তার কারণে তিনি জাতীয় পর্যায়েও পরিচিত মুখ। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনার কারণে তিন দফা বহিষ্কার হলেও তিনি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জুন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কটিয়াদি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান। এবার সরাসরি ভোটে না নামলেও নির্বাচনী রাজনীতির কেন্দ্রেই আছেন তিনি।

তার বড় ভাই আনিসুজ্জামান খোকন ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দলের গণশিক্ষা বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ১১ নম্বর সেক্টরে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে সম্মুখসমরে অংশ নেন এবং ছাত্রজীবনে সরকারি তিতুমীর কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও তিনি কখনো সে দেশের নাগরিকত্ব নেননি।

স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, জামায়াত ও খেলাফত মজলিস—দুই দল থেকেই প্রার্থী থাকলে শেষ পর্যন্ত জোটের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিএনপির পক্ষ থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন জেলা কমিটির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন, যিনি প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিস উভয় পক্ষই জোট থেকে নিজ নিজ প্রার্থীর চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী আনিসুজ্জামান খোকন নতুন রাজনৈতিক ধারা তৈরির প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। শাহরিয়ার জামান রানা জানিয়েছেন, ভোটারদের রায়কেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেবেন।

এ বিষয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, তিনি নিজে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তার ছেলে ও ভাইয়ের প্রার্থী হওয়াকে তিনি স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৯৪ হাজার। স্বাধীনতার পর থেকে আসনটিতে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে এ আসনে একাধিক দলের প্রার্থী থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।