মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয়: কাতার

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়লে মধ্যপ্রাচ্যে বিপর্যয়: কাতার
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখাপাত্র মাজেদ আল আনসারি

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কাতার। উপসাগরীয় এই দেশটি সতর্ক করে বলেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্র হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

মঙ্গলবার রাজধানী দোহায় কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি এক বিবৃতিতে বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে কোনো ধরনের উত্তেজনাবৃদ্ধি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাই কাতার সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে।

এর আগে গত বছরের জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনা ঘটে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান কাতারের আল উদেইদে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। কাতারের ভূখণ্ডে সেটিই ছিল কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রথম সামরিক হামলা। পরবর্তীতে কাতারের মধ্যস্থতায় উভয় দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যা এখনো বহাল রয়েছে।

এদিকে গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানজুড়ে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে। অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার চরম অবমূল্যায়ন ও লাগামহীন মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ থেকেই এই বিক্ষোভের সূচনা। বর্তমানে ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর একটি। ডলারের বিপরীতে রিয়েলের মান প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক দুরবস্থার ফলে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘট শুরু করলে তা দ্রুত দেশব্যাপী বিক্ষোভে রূপ নেয়। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের প্রায় সব প্রদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন সংঘর্ষে এ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

বিক্ষোভের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার তিনি ইরানি জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা আসবে।

অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, দেশটিতে মার্কিন হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা জবাব দেবে ইরানের সেনাবাহিনী। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।