মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০১ এএম

ডেনমার্কের পাশে জার্মানি–ফ্রান্স, গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্প চাপে

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
ডেনমার্কের পাশে জার্মানি–ফ্রান্স, গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্প চাপে
হোয়াইট হাউজে বৈঠকের আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ছবি: রয়টার্স

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনার মধ্যে বুধবার হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এক ঘণ্টারও কম সময় ধরে চলা এই ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের আয়োজন করা হয় প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সেই ঘোষণার পর, যেখানে তিনি ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ডেনিশ সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ডিআর-কে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকটি শান্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লোক্কে রাসমুসেন বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ কৌশল নির্ধারণই ছিল বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি জানান, ডেনমার্ক একটি অভিন্ন সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হলেও বৈঠকের পরও গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য রয়ে গেছে। রাসমুসেন বলেন, ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করেছেন, তবে ডেনমার্কের অবস্থান ভিন্ন এবং এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আদৌ কোনো চুক্তি হবে কি না, তা অনিশ্চিত।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটজফেল্ড বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যেতে চায় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি মিত্র রাষ্ট্র হিসেবে সহযোগিতা বাড়াতে তারা প্রস্তুত। তার ভাষায়, সহযোগিতা মানেই অধীনতা নয়।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীও এই অবস্থান সমর্থন করে বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনোভাবেই প্রয়োজনীয় নয়। তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়া বা চীনের পক্ষ থেকে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি তাৎক্ষণিক কোনো সামরিক হুমকি নেই—যে যুক্তি দেখিয়ে ট্রাম্প দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরছেন।

হোয়াইট হাউজের বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও দাবি করেন, রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা অপরিহার্য। তিনি লেখেন, প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকলে নেটো আরও শক্তিশালী হবে।

ডেনমার্কের নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “দুটি স্লেজ কুকুর দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না—এটা কেবল যুক্তরাষ্ট্রই করতে পারে।”

তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপরীতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং শক্তি প্রয়োগের হুমকি বেপরোয়া আচরণ। এরই মধ্যে ২০২৬ সালজুড়ে আর্কটিক অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ডেনমার্ক।

ডেনিশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিনল্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় সামরিক তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। এই উদ্যোগ নেটোর মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই বাস্তবায়ন করা হবে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, গ্রিনল্যান্ডে বাড়তি সামরিক উপস্থিতিতে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন ও নরওয়ে অংশ নেবে। নেটোর আওতায় বিমান, নৌযান ও সেনা মোতায়েন করা হবে, যা আর্কটিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, সুইডেন ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সেনা পাঠানো শুরু করেছে। সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিসটারসন জানিয়েছেন, নেটোর যৌথ মহড়া ‘অপারেশন আর্কটিক এনডিওরেন্স’-এর অংশ হিসেবেই সুইডিশ সামরিক কর্মকর্তারা গ্রিনল্যান্ডে যাচ্ছেন। তবে কতজন সেনা পাঠানো হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ডেনমার্কের পাশে জার্মানি ও ফ্রান্সের প্রকাশ্য সমর্থন এবং নেটোর সামরিক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

 

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।