মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৩২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২০ পিএম

মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আকাশসীমায় সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগ্রহীত

মেক্সিকো, মধ্য আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশের ওপর দিয়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে বিমান সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।

সংস্থাটি বলছে, ওই অঞ্চলে চলমান সামরিক তৎপরতা ও জিপিএস সিগন্যাল হস্তক্ষেপের আশঙ্কার কারণেই এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এফএএ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোর পাশাপাশি ইকুয়েডর, কলম্বিয়া এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের আকাশসীমার কিছু অংশে উড্ডয়নকালে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে বিমান সংস্থাগুলোর জন্য একটি নোটিশ জারি করা হয়েছে। শুক্রবার জারি করা এই সতর্কতা আগামী ৬০ দিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলা, কিউবাকে ঘিরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং মেক্সিকো ও কলম্বিয়ার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের হুমকি। এসব কারণে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গত মাসে এমনই এক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় একটি মার্কিন যাত্রীবাহী বিমান। ভেনেজুয়েলার কাছে মাঝআকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি ট্যাংকার বিমানের সঙ্গে সংঘর্ষ এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে দিক পরিবর্তন করতে হয় জেটব্লু এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটকে। জেটব্লু ফ্লাইট-১১১২ ক্যারিবীয় দেশ কিউরাসাও থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল। ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দূরে থাকা অবস্থায় বিমানটি একটি মার্কিন সামরিক জেটের মুখোমুখি হয়, যার ট্রান্সপন্ডার বা অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র সক্রিয় ছিল না।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হামলার পর এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘটনার পর ট্রাম্প এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে কলম্বিয়ায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। গত সপ্তাহে তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, মেক্সিকো সরকারের নয়, বরং মাদক কার্টেলগুলোর দ্বারা দেশটি কার্যত নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এবং সেগুলো দমনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে।

ভেনেজুয়েলায় হামলার পর এফএএ পুরো ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমান চলাচলের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। এর ফলে বড় বড় আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থার শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছিল।

এই প্রেক্ষাপটে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম শুক্রবার বলেন, মাদক কার্টেল দমন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে অভিবাসীর প্রবাহ কমাতে তার সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মেক্সিকোর ভেতরে কার্টেলবিরোধী সামরিক অভিযানের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এই বক্তব্য দেন।

শিনবাউম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে এবং দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান রামন দে লা ফুয়েন্তের মধ্যে ফোনালাপের পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেখানে তারা উল্লেখ করেন, ‘পারস্পরিক হুমকি মোকাবিলায় আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন’।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে শিনবাউম বলেন, মেক্সিকো সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তিনি উদাহরণ হিসেবে হত্যাকাণ্ডের হার কমে আসা, সীমান্তে মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে ফেনটানিল জব্দের পরিমাণ হ্রাস এবং অভিবাসন প্রবণতা কমার কথা তুলে ধরেন।

একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে অস্ত্র পাচার বন্ধের আহ্বান জানান। শিনবাউম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের ব্যাপক ব্যবহারই মেক্সিকোতে কার্টেল সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, “অন্য পক্ষকেও তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে যে মাদক ব্যবহারের সংকট রয়েছে, তা শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।”

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই শিনবাউম ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ফোনালাপ হয়। সে সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে বলেন, মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।