মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ এএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৪:১৮ পিএম

ধর্ম অবমাননা অভিযোগে আন্দোলন, ইউএপি বন্ধ, ১৬ দফা দাবি

সারাদেশ
Sub Editor
ধর্ম অবমাননা অভিযোগে আন্দোলন, ইউএপি বন্ধ, ১৬ দফা দাবি
ছবি: সংগ্রহীত

ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দুই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার পর রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও মঙ্গলবারও একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের পদত্যাগসহ মোট ১৬ দফা দাবি জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীদের ই-মেইলের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বন্ধের সিদ্ধান্ত জানায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শায়েখ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে অধ্যাপক শমসাদ আহমেদকে শোকজ করার অভিযোগ এবং সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশিরের বিরুদ্ধে ‘হিজাব পরায় ছাত্রীকে হেনস্তা’র অভিযোগে। এসবের প্রতিবাদে গত রোববার শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সেদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশির এবং বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম মহসীনকে চাকরিচ্যুত করে নোটিস জারি করা হয়। শিক্ষার্থীরা এ এস এম মহসীনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগও তোলে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন, মাস্টার্সের ছাত্র মো. মারুফ হোসেন বলেন, শায়েখ আহমাদুল্লাহর সঙ্গে ছবি তোলার কারণে একজন শিক্ষককে শোকজ করা হয় এবং লায়েকা বশির দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী মানসিকতার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করছেন বলে তারা মনে করেন। তিনি আরও বলেন, চাকরিচ্যুতির পর এখন তারা ভিসির পদত্যাগসহ ১৬ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

হিজাব সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে লায়েকা বশির বলেন, কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। কোভিড-১৯ চলাকালে অনলাইন পরীক্ষায় পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য এক শিক্ষার্থীকে মুখ খোলার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। পাশাপাশি, গত ডিসেম্বরে দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট বিকৃতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে সহযোগী অধ্যাপক এ এস এম মহসীন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। যে ফেসবুক পোস্টে রিয়্যাক্ট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি খুঁজে পাওয়া যায় না এবং সেটি এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত হওয়ায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।

শিক্ষার্থীদের বর্তমান দাবির বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সহযোগী অধ্যাপক তাকাদ আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

এদিকে, দুই শিক্ষককে যেভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তার তীব্র সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। তারা এটিকে ‘দঙ্গলবাজি’ ও প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। শিক্ষক নেটওয়ার্কের মতে, ভিন্ন মত ও একাডেমিক স্বাধীনতা চর্চার কারণে শিক্ষকদের হয়রানি করা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি নিন্দনীয় নজির।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।