সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি কাতারভিত্তিক আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তার মা শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। জয় জানান, বয়স ও মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়তে চাইছেন।
জয় বলেন, “আমার মা দেশে ফিরতে চান, কিন্তু রাজনীতিতে থাকবেন না। বিদেশে থাকা চাই না।” তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই শেষ হবে না। দেশজুড়ে দলের সমর্থন এখনও শক্ত, তাই দল তার সঙ্গে বা ছাড়া নির্বাহিত হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়, আওয়ামী লীগ কি তার অবসরের পরও কার্যকর থাকবে? উত্তরে জয় বলেন, “হ্যাঁ, এটি একটি প্রাচীন রাজনৈতিক দল। ৭০ বছরের ইতিহাস রয়েছে। আমাদের ভোটভিত্তি এখনও শক্ত।”
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে আছেন। দেশজুড়ে মানবতাবিরোধী মামলায় তার মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতৃত্ব বিদেশে আত্মগোপনে বা কারাগারে।
জয় দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে দল কারচুপি করেনি। বিরোধীরা নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তিনি বলেন, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার ব্যক্তিগত উদ্যোগের কারণে কিছু অনিয়ম হয়েছে, যা দলের নির্দেশে হয়নি।
সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্ট আন্দোলনের সময় নিহত বিক্ষোভকারীদের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয় বলেন, “আমাদের সরকারের সময়ে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের কোনো ক্ষতি হয়নি। যারা নিহত হয়েছেন, তারা সহিংসতায় যুক্ত ছিলেন। আমার মা কখনো মৃত্যুর নির্দেশ দেননি।”
জয় আরও উল্লেখ করেন, “আমাদের সরকারের পতনের পর যদি সহিংসতা ঘটে, তা আমাদের নির্দেশে নয়। আমরা প্রতিবাদ বা আন্দোলনের সুযোগও পাইনি।”
তিনি বলেন, শেখ হাসিনা কোনও হত্যা বা সহিংসতার নির্দেশ দেননি। সকল হত্যাকাণ্ড ও দমন-নিপীড়ন নিরপেক্ষ বিচার হওয়া উচিত। একতরফা অভিযোগ বা রাজনৈতিক চাপ কখনো গ্রহণযোগ্য নয়।
জয় স্পষ্ট করেছেন, “আওয়ামী লীগ বরাবরই সহিংসতা প্ররোচিত করেনি। আমাদের আন্দোলন, প্রতিরোধ ও কর্মসূচি সর্বদা শান্তিপূর্ণ ছিল। দেশের জন্য আমরা বিচার ও ন্যায় নিশ্চিত করতে চাই।”