ক্ষমতায় গেলে কোনো ধরনের চাঁদা নেওয়া হবে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না—এমন ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে তিনি বিএনপির প্রস্তাবিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, মাত্র ২ হাজার টাকা দিয়ে একটি পরিবারের মৌলিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, তারা কোনো কার্ড বা নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না। তার ভাষায়, “২০০০ টাকা দিয়ে একটি পরিবারের কী সমাধান হবে?” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের অর্থ সহায়তায় মধ্যস্বত্বভোগীরা ভাগ বসাতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত প্রকৃত দরিদ্র ও বেকারদের হাতে সেই টাকা নাও পৌঁছাতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার অর্থ জনগণের কর থেকেই আসে। কিন্তু এর বাইরেও দেশে এক ধরনের ‘অঘোষিত ট্যাক্স’ চালু আছে, যা আদায় করা হয় হকার, দোকানদার এমনকি ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও। এই ট্যাক্সের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের নামে টাকা আদায় করা হয়, যা সম্পূর্ণ অন্যায়। কখনো দলীয় পরিচয় জিজ্ঞেস করা হয়, আবার কখনো পরিচয় ছাড়াই টাকা দিতে বলা হয়। এ ধরনের চাঁদাবাজি আর চলতে দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী দুর্নীতি করবে না এবং কাউকে দুর্নীতি করতেও দেবে না। ইনসাফ বা ন্যায়বিচার জাতি, ধর্ম ও দল নির্বিশেষে সবার জন্য নিশ্চিত করা হবে এবং বিচার আর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি হবে না।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, তারা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে শিশু, তরুণ, যুবক, শ্রমিক, কৃষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সব ধর্মের নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করবে।