মুখপত্র
প্রিন্ট এর তারিখঃ ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম  ||  প্রকাশের তারিখঃ ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

জেলখানায় প্রেম, এবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন দুই ভয়ংকর খুনি

আন্তর্জাতিক
Sub Editor
জেলখানায় প্রেম, এবার বিয়ে করতে যাচ্ছেন দুই ভয়ংকর খুনি
ছবি: এনডিটিভি

 

কারাগারে পরিচয়, সেখান থেকেই প্রেম—আর সেই সম্পর্ক এবার বিয়েতে গড়াচ্ছে। হত্যামামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক নারী ও এক পুরুষকে বিবাহের জন্য ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল দিয়েছে রাজস্থান হাইকোর্ট। এ ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার আলওয়ার জেলার বারোদামেভ এলাকায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে কনে প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং বর হনুমান প্রসাদের। আদালতের বিশেষ অনুমতিতে তারা কারাগারের বাইরে এসে বিয়ে করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে সাঙ্গানের ওপেন জেলে প্রথম দেখা হয় প্রিয়া ও হনুমানের। সেখান থেকেই পরিচয়, ঘনিষ্ঠতা এবং এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুজনেই যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও জীবনসঙ্গী হিসেবে একে অপরকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বিয়ের অনুমতির জন্য আদালতে আবেদন করেন তারা।

প্রিয়া শেঠ পেশায় একজন মডেল ছিলেন। ২০১৮ সালের মে মাসে টিন্ডার অ্যাপের মাধ্যমে দুষ্যন্ত শর্মা নামের এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিকল্পনা ছিল অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়। প্রিয়া ও তার তৎকালীন প্রেমিক দুষ্যন্তের পরিবারের কাছে ১০ লাখ রুপি দাবি করেন। পরিবার ৩ লাখ রুপি দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দুষ্যন্তকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরিচয় গোপন রাখতে তার মুখে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয় এবং মরদেহ সুটকেসে ভরে আমের পাহাড়ে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সাঙ্গানের ওপেন জেলে বন্দি।

অন্যদিকে, হনুমান প্রসাদ একাধিক হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত। তিনি তার সাবেক প্রেমিকার স্বামী বনওয়ারী লালকে পশু জবাইয়ের ছুরি দিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার সময় ঘুম থেকে জেগে ওঠা তিন সন্তান ও এক ভাতিজাকেও প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ার আশঙ্কায় হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় মোট পাঁচজনকে হত্যার দায়ে হনুমান প্রসাদ যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

সাজাপ্রাপ্ত দুই খুনির এমন বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক ও আইনি মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সম্পাদক ও প্রকাশক | উইনিং গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।

© 2026 মুখপত্র। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।