রিমান্ড শুনানিতে নিজের শারীরিক অসুস্থতা ও মারধরের অভিযোগ তুলে ধরে আদালতে বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুল হাসান রিপন।
তিনি দাবি করেন, একটি ‘মব’ তাকে পরিবারের সামনে মারধর করেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে দীন ইসলাম বেপারী হত্যা মামলার রিমান্ড শুনানিতে এসব কথা বলেন রিপন।
আদালতে তিনি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং হৃদ্রোগে ভুগছেন। সরকার পতনের সময় তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলেও দাবি করেন। রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তাকে মারধর করা হয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। মারধরে আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরদিন মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রাসেল সরদার তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে আদালত সেদিন রিমান্ড মঞ্জুর না করে তাকে কারাগারে পাঠান এবং বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেন।
শুনানির দিন রিপনকে আদালতে হাজির করা হলে তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওবায়দুল ইসলামসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালতের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিপন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর আগে কখনো তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেনি। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
রিপন আরও বলেন, তিনি শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং আদালতের কাছে ন্যায়বিচার কামনা করেন।
সব শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মহিন উদ্দিন জানিয়েছেন।
দীন ইসলাম বেপারী হত্যা মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে সরকার পতনের দিন ছাত্রজনতা শাহবাগের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পৌঁছালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে দীন ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।