জামায়াত আমিরের এক্স পোস্ট ঘিরে উত্তাপ, নারীদের ঝাড়ু মিছিল
অনলাইন ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্টকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তাপ ছড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়িয়ে বিষয়টি রাজপথ ও ক্যাম্পাস রাজনীতিতেও আলোড়ন তুলেছে।
ওই পোস্ট ঘিরে অনলাইন বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যে ঢাকায় বিক্ষোভ করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। বিএনপি ওই বক্তব্যকে দুঃখজনক ও নিন্দনীয় বলে প্রতিবাদ জানায়।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দলীয় প্রধানের এক্স অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাক করে’ ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি।
শনিবার শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রকাশিত পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে নারীদের নেতৃত্ব ও কর্মজীবী নারীদের ভূমিকা নিয়ে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়, তা ঘিরেই ব্যাপক সমালোচনার সূত্রপাত।
ওই পোস্টে বলা হয়, নারীদের নেতৃত্বে আসা জামায়াত সমর্থন করে না এবং আল্লাহ তা অনুমোদন করেননি। আরও বলা হয়, আধুনিকতার নামে নারীদের ঘরের বাইরে আনা হলে তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়—যা ‘পতিতাবৃত্তির অন্য রূপ’ বলে উল্লেখ করা হয়।
পোস্টটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার রাতেই হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। সেখানে অভিযোগ করা হয়, শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়েছিল।
রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া জামায়াতের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমন্বিত সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে সাময়িকভাবে আমিরের এক্স অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। তবে দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে দলের সাইবার টিম অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ওই সময়ের মধ্যে প্রকাশিত পোস্টটি জামায়াত আমিরের বক্তব্য বা অবস্থান নয় বলেও দাবি করা হয়।
এর আগে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের সুযোগ না থাকার বিষয়ে শফিকুর রহমানের মন্তব্য আলোচনায় আসে। তিনি বলেছিলেন, কোনো নারী তার দলের আমির হতে পারবেন না এবং এটিকে তিনি ধর্মীয়ভাবে অপরিবর্তনযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।
এই পটভূমিতে এক্স পোস্টটি সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়।
বিক্ষোভ ও ঝাড়ু মিছিল
নারী বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একদল নারী শিক্ষার্থী ঝাড়ু মিছিলও করেন।
রোববার দুপুরে মধুর ক্যান্টিন থেকে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে টিএসসি হয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে নানা প্রতিবাদী স্লোগান দেওয়া হয়।
সমাবেশে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জামায়াত আমিরকে নারীদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় আরও বড় কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের দাবি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং এ বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত আমির নিজেই তার অবস্থান প্রকাশ করেছেন।
‘হ্যাক’ দাবি নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন
জামায়াতের হ্যাকের দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, নারীবিদ্বেষী পোস্ট দেওয়ার প্রায় ৯ ঘণ্টা পর হঠাৎ করে হ্যাকের দাবি তোলা কতটা যৌক্তিক—সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
তিনি বলেন, ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে দ্রুত জনগণকে জানানোই দায়িত্ব। কিন্তু এখানে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর হ্যাকের দাবি এসেছে, যা স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি করে।
জামায়াত আমিরের বক্তব্য
রোববার শেরপুরে এক নির্বাচনি জনসভায় শফিকুর রহমান বলেন, তার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে নারীদের নিয়ে অরুচিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এটি একটি ষড়যন্ত্র এবং যারা এতে জড়িত, তারা নৈতিকভাবে নিচুস্তরের।
তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনায় যদি কোনো মা কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তিনি তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত সাইবার ষড়যন্ত্র। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের একাধিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সময়সূচি, পাসওয়ার্ড পরিবর্তন ও অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সাইবার সিকিউরিটি কাউন্সিলে আবেদন করা হবে।