জনগণের জন্য চাপ বাড়লেও যেকোনো মুহূর্তে পে-স্কেল: মুখ্য সচিব
নিউজ ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং যেকোনো সময় তা ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি সরকার দিয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে নতুন বেতনকাঠামো চালু হলে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে বলেও স্বীকার করেন মুখ্য সচিব। তার ভাষায়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বেতন বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। তবে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা কষ্টকর হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। ২০১৫ সালের পর নতুন কোনো পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয় এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে। কমিশনের হিসাবে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।
বর্তমানে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের পেছনে সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় চলমান অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে সরকার কীভাবে এ ব্যয় সামাল দেবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেটে পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়টি থাকলেও এর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন করা হলে আব্দুস সাত্তার বলেন, বাজারে কিছু সমস্যা রয়েছে এবং সরকার তা সমাধানের চেষ্টা করছে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের কারণে উৎপাদনব্যবস্থায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও পরিস্থিতি শিগগিরই স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্য সচিব অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, আগের সময়ে বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচার হয়েছে। ফলে বেসরকারি খাতকে ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতি ও ব্যাংক খাতকে বর্তমান সংকট থেকে বের করে আনতে সময় প্রয়োজন। নতুন সরকারের সামনে এটিই অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন