|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

নাটোর-৪ আসনের এমপির ছেলের রিমান্ড ও এমপি আব্দুল আজিজের বিতর্কিত ভিডিও

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:০৫ এএম
১২৩ পঠিত
00:00
00:00
নাটোর-৪ আসনের এমপির ছেলের রিমান্ড ও এমপি আব্দুল আজিজের বিতর্কিত ভিডিও

নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পারিবারিক অস্থিরতাকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নাটোর। গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যাকাণ্ডে এমপি আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর নাম জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। গত ১৪ অক্টোবর রাতে চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেলমেট পরা দুই যুবক শাকিলকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। পরবর্তীতে ঢাকার বিএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ৮টায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় যুবদলের পদধারী নেতা নুরুজ্জামান মিন্টুকে তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুল হান্নানকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। গত ক’দিনের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই খোদ এমপি আবদুল আজিজের আশালীন ভিডিও দৃশ্যত ক্ষোভের আগুলে ঘি ঢেলে দিয়েছে। এই হত্যা মামলায় আজিজের পুত্র নুরুজ্জামান মিন্টুকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। মিন্টুকে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকেও বহিষ্কার করেছে দল। এদিকে, সন্ত্রাসী হামলায় আহত হওয়ার ১২ দিন পর গত সোমবার রাত ৮টায় ঢাকার বিএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাকিল ইসলাম। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী ও পরে ঢাকা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালে নেয়া হয়।

শাকিল হত্যার শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এমপি আব্দুল আজিজের একটি অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওটিতে এমপিকে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায়। মঙ্গলবার রাতে শাকিলের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরই এটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিও প্রকাশের পর সাধারণ মানুষসহ বিএনপিসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা তার পদত্যাগ দাবি করতে থাকেন। বড়াইগ্রামের বনপাড়া বাইপাস চত্বরসহ নাটোরের বিভিন্ন স্থানে এমপির পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে ক্ষুব্ধ জনতা। এর আগে গত ২০ এপ্রিল শাকিল নিজেই নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন এবং থানায় সাধারণ ডায়েরি করার কথা জানিয়েছিলেন। শাকিলের বাবা রবিউল করিম অভিযোগ করেছেন যে, পুলিশ তার ছেলের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখেনি। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এমনকি বিএনপি’র জেলা নেতৃবৃন্দসহ ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার পদত্যাগ দাবি করেন। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে শাকিলের প্রথম জানাজা হয়।

এদিকে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আব্দুল আজিজ এমপি এক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, এই ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক। তার ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) প্রযুক্তির সহায়তায় তার সম্মানহানি করার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও তৈরি করেছে এবং তিনি এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছেন। ভিডিওতে পাঁচ মিনিটের তিনটি ক্লিপে এমপির নানা স্পর্শকাতর অঙ্গভঙ্গি ও কথা বলতে দেখা গেছে, যা ফেসবুক জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আশফাক আহমেদ নামে প্রবাসী এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে প্রথমে তিনটি ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ পায়। এমন কি এসময় তিনি নানা ধরনের অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন। আশফাক নামের ওই আইডি থেকে এরইমধ্যে তার বিভিন্ন অপকর্ম ও তার দুই সন্তানের নানা ধরনের অনৈতিক কাজের সমালোচনা করা হচ্ছিল। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মান ক্ষুণ্ন্ন করার জন্য এআই প্রযুক্তি দিয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ।

পরিস্থিতির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে শাকিলের জানাজার সময়ও। মঙ্গলবার রাতে বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে জানাজা চলাকালীন এমপি আজিজ নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের ঘোষণা দিলে বিক্ষুব্ধরা তার বিরুদ্ধে ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেয়। জানাজা শেষে চাঁচকৈড় বাজারের রাশ আরবান মেগা শপিং মলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

শাকিলের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। ছাত্রদলের দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, এমপির দুই ছেলের সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল এবং শাকিল এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামান সোহাগের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন কর্তৃক স্বাক্ষরিত পরিপত্রে নুরুজ্জামান মিন্টুকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। নাটোরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে আছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম। দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্বও আছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →