নির্বাচনে ধর্মের অপব্যবহার? জামায়াত নেতাদের বক্তব্যে নিন্দার ঝড়
নিউজ ডেস্ক
নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্ম নিয়ে একাধিক বেফাঁস মন্তব্য করায় জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ধর্মীয় বক্তব্য ব্যবহারের অভিযোগ নতুন না হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর উপজেলা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবং উপজেলা জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমানের একটি বক্তব্য সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি শাহজাদপুর উপজেলার কায়েমপুর ইউনিয়নের স্বরুপপুর কাশিনাথপুর আব্দুল মজিদ হাফিজিয়া ও দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়ন উপলক্ষে আয়োজিত একটি মসজিদের ইসলামী জলসায় বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তাকে বলতে শোনা যায়, যারা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে থাকবে না, তাদের কোরআনের মাহফিল শোনার কোনো দরকার নেই। একই সঙ্গে তিনি কোরআন ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে সবাইকে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে থাকার অনুরোধ করেন।
গত শনিবার তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মো. মিজানুর রহমান বলেন, তিনি প্রায় দুই মাস আগে ওই জলসায় বক্তব্য দিয়েছিলেন। ভিডিওটি কেটে জোড়া লাগিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তিনি কাউকে অবমাননার উদ্দেশ্যে এমন কথা বলেননি; বরং সবাইকে কোরআনের পথে আসার কথাই বলেছেন।
এর আগে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য ঘিরেও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। গত ৭ জানুয়ারি রাতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় একটি নির্বাচনী উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এমনও হতে পারে—কারও জীবনে কখনো ইবাদতের সুযোগ হয়নি, কিন্তু দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দিতে দিতে মারা গেলে আল্লাহ চাইলে তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তিনি এটিকে গল্পের ছলে বলা বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে এই মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে পড়ে।
এদিকে রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রাথমিক মনোনীত প্রার্থী ছিলেন এটিএম আজম খান। জামায়াতের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোটের কারণে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তিনি মনোনয়ন জমা দেননি। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে সমর্থন জানান তিনি।
এই প্রেক্ষাপটে এটিএম আজম খানের আরেকটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ৮ জানুয়ারি পীরগাছা উপজেলার কদমতলা এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি বক্তব্য দেন। ওই সভায় ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
১ মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, এটিএম আজম খান বলছেন—২৮ তারিখ সকাল সাড়ে ৬টায় কেন্দ্র থেকে তাকে ফোন করে জানানো হয় যে তাকে ‘কোরবানি’ দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি ইব্রাহিম (আ.) ও ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তার কোরবানি নাকি এর চেয়েও বড়, কারণ এখানে পীরগাছা-কাউনিয়ার লাখ লাখ নারী-পুরুষের কোরবানি হয়েছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উপস্থিতদের ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে আহ্বান জানান এবং উপস্থিত জনতা সমস্বরে তা উচ্চারণ করে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তার সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন, যা শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।
এসব বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নির্বাচনী প্রচারে ধর্মীয় অনুভূতিকে এভাবে ব্যবহার করাকে আপত্তিকর