|
|
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

রোহিঙ্গাদের‘বাঙালি’আখ্যা মিয়ানমারের,তীব্র প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ০৯:৪৩ এএম
১১ পঠিত
00:00
00:00
রোহিঙ্গাদের‘বাঙালি’আখ্যা মিয়ানমারের,তীব্র প্রতিবাদ জানাল বাংলাদেশ
ছবি: সংগ্রহীত

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) চলমান ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ঢাকা মনে করছে, ২০১৬-১৭ সালে রাখাইনে সংঘটিত জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বৈধতা দিতে এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার।

শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রিত করার পেছনে মিয়ানমারের উদ্দেশ্য হলো তাদের অবৈধ অভিবাসী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’কে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে, যা মূলত সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার কৌশল।

বাংলাদেশ জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে আরাকান বর্মণ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই সেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে ম্রো-হাউং বা রোহাউং অঞ্চলে তাদের উপস্থিতির কারণে বৃহত্তর বাংলায় তাদের ‘রোহিঙ্গা’ নামে পরিচিতি পায়। ঔপনিবেশিক নথি, জনতাত্ত্বিক বিবরণ ও স্বতন্ত্র গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিনের বসবাসের সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। ফলে তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে দাবি করা সম্পূর্ণ অসত্য।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অংশ ছিল। নানা বৈষম্যের শিকার হলেও তারা ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে। পরিকল্পিতভাবে তাদের ‘বাঙালি’ বলা মূলত নিজস্ব পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করে জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরির চেষ্টা। ভাষাগতভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সঙ্গে কিছু মিল থাকলেও সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দিক থেকে রোহিঙ্গারা একটি আলাদা জনগোষ্ঠী।

বাংলাদেশ স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৭৮ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার বৈধ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭-১৮ সালেও নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আট বছরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে মিয়ানমার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এ ধরনের নিষ্ক্রিয়তা রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলেও সতর্ক করেছে ঢাকা।

এদিকে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল—মিয়ানমারের এমন দাবি তথ্যপ্রমাণহীন ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে সরকার। বাংলাদেশ আবারও মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →