একাত্তরে তাদের কারণে মা-বোনের সম্মান গেছে, আজও দরদ নেই: তারেক
নিউজ ডেস্ক
নারীদের প্রতি জামায়াতে ইসলামীর কোনো মমতা বা সহানুভূতি কখনোই ছিল না—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ইতিহাস ও সাম্প্রতিক ঘটনাই প্রমাণ করে, নারী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে দলটির কোনো আন্তরিকতা নেই।
সোমবার দুপুরে যশোর উপশহরের ক্রীড়া উদ্যানে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া একটি নারী-বিরোধী মন্তব্যকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্যের বড় অংশজুড়েই ছিল নারী অধিকার ও রাজনীতিতে নারীর ভূমিকা।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার কারণেই দেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। তিনি দাবি করেন, সেই সময় দলটির অবস্থানের কারণে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং বহু নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, “যাদের নিজের দেশের প্রতি দরদ নেই, তাদের কাছ থেকে এ দেশের নারী সমাজের জন্য কোনো সহানুভূতি আশা করা যায় না।”
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল। ধারণা ছিল, রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে রাজনীতি করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, একটি দল দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী—নারীদের—তুচ্ছ করে বক্তব্য দিতে শুরু করেছে এবং তাদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখার মানসিকতা প্রকাশ করেছে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হলে নারী সমাজকে পিছনে ফেলে কোনোভাবেই অগ্রগতি সম্ভব নয়। তার মতে, দেশ পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা কর্মজীবী নারী, মা ও মেয়েদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের মানসিকতা থেকে দেশের মানুষ কখনোই ভালো কিছু আশা করতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত ওই পোস্টে নারীদের নেতৃত্বের বিরোধিতা করা হয় এবং নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করাকে অবমাননাকর ভাষায় উপস্থাপন করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে জামায়াত দাবি করে, তাদের নেতার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল।
তবে যশোরের জনসভায় তারেক রহমান এই দাবি নাকচ করে বলেন, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবি সত্য নয়। তিনি বলেন, প্রতিক্রিয়া শুরু হওয়ার পরও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক পোস্ট করা হয়েছে, যা হ্যাকের দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তারেক রহমানের ভাষায়, “যারা প্রকাশ্যে মিথ্যা বলতে পারে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল আর্থিক সেবার নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা করছে, যা ভোটাধিকারে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।
তিনি আরও বলেন, ভোট গণনায় সময় বেশি লাগবে—এমন নতুন ‘গল্প’ শোনানো হচ্ছে। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভোট ও ভোট গণনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সচেতন। গণনার দেরির অজুহাতে কোনো অনিয়মের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
নারী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দেশের গার্মেন্টস শিল্প মূলত নারীদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ৫০ লক্ষাধিক নারী কাজ করছেন। তাদের অবদানের কারণেই বিশ্বে বাংলাদেশের এই শিল্প পরিচিতি পেয়েছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালে মেয়েদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
জনসভায় তারেক রহমান যশোরসহ ৭ জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সকাল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেন, এতে পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সভা শেষে তিনি হেলিকপ্টারে ঢাকায় ফিরে যান। এর আগে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধারাবাহিক নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।