|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

আম্পায়ারিং বিতর্কের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল বাংলাদেশ

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:৫৩ পিএম
৪০ পঠিত
00:00
00:00
আম্পায়ারিং বিতর্কের ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হারল বাংলাদেশ

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে তারা দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই জয়ে ব্রেন্ডন কিং অপরাজিত ৮১ এবং জন ক্যাম্পবেল ৪৯ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কিন্তু, দ্বিতীয় ইনিংসে সেই স্পিন আক্রমণই রীতিমতো দাপটের সঙ্গে সামলে মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিল ক্যারিবীয়রা। জন ক্যাম্পবেলের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৯ রান। বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই সামলান দুই ওপেনার। তবে তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। ৫৫ বলে ৪৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। সেই লক্ষ্য অনায়াসেই পেরিয়ে মিরপুরে দাপুটে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা।

ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার নীতিন মেনন (ভারত) এবং স্যাম নোগাস্কির (অস্ট্রেলিয়া) সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চারটি লেগ বিফোরের আবেদন নাকচ করে দেন এই দুই আম্পায়ার। পরে প্রযুক্তির সাহায্যে দেখা যায়, চারটি ক্ষেত্রেই বল স্টাম্পে আঘাত করছিল, কিন্তু 'আম্পায়ার্স কল'-এর কারণে ব্যাটাররা বেঁচে যান। এই সিদ্ধান্তগুলো বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। মোট চারটা লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তে সায় দেন নি এই দুই আম্পায়ার, পরে দেখা যায় ৪ বারই বল স্টাম্পে লেগেছিল কিন্তু আম্পায়ারস কলে বেঁচে গিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান আম্পায়াররা।

ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল সাদমান ইসলামের ব্যাটে। তার ১০৫ রানের অসাধারণ সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছিল ২৭২ রান। জবাবে নাঈম হাসানের ৪ উইকেটের দাপটে সফরকারীরা ২৪৫ রানে গুটিয়ে যায়, ফলে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। রোস্টন চেজের ৫ ও জোমেল ওয়ারিক্যানের ৪ উইকেটের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশ মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়।

দ্বিতীয় ইনিংসে নাঈম হাসান সর্বোচ্চ ৫২ রান করে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক তুলে নেন। জাকের আলী অনিক ২২ রান করলেও বাকি ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারেননি। নাঈম শেষ পর্যন্ত রোস্টন চেজের পঞ্চম শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। ১৪২ রানের এই স্বল্প পুঁজি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান। ২২ রান করা জাকের আলী অনিককে ফিরিয়ে নাইম হাসানের সঙ্গে তার ৩১ রানের জুটি ভাঙেন ওয়ারিক্যান। নাইমের সঙ্গে তার জুটি থেকে আসে ২৬ রান। তাইজুলের সঙ্গে ১৭ এবং শরীফুলের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। তার আগে ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রোস্টন চেজ।

১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল। উদ্বোধনী জুটিতে কিং ও ক্যাম্পবেল ১১২ রান যোগ করে ম্যাচ থেকে বাংলাদেশকে ছিটকে দেন। ২১তম ওভারে শরীফুল ইসলাম ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেও ততক্ষণে জয়ের পথ প্রশস্ত হয়ে গিয়েছিল। এরপর হাসান মাহমুদ চন্দরপলকে আউট করলেও তা জয় আটকানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে কিং দলের জয় নিশ্চিত করেন। আগের দিনের ১০৬ রানের লিডের সঙ্গে আরো কিছু রান যোগ করার প্রত্যাশা ছিল স্বাগতিকদের।

বাংলাদেশের বোলাররা এই ইনিংসে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসে শরীফুল ইসলাম এবং হাসান মাহমুদ একটি করে উইকেট পেয়েছেন। এই পরাজয়ের ফলে সিরিজ নির্ধারণের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে বাড়তি চাপের মুখে পড়তে হবে। সামগ্রিকভাবে, প্রথম ইনিংসে বড় লিড নেয়ার সুযোগ থাকলেও ব্যাটিং ব্যর্থতা ও আম্পায়ারিং বিতর্ক ম্যাচটিকে বাংলাদেশের হাতের বাইরে নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →