নির্বাসিত আওয়ামী নেতাদের প্রত্যাবর্তনের ছক: দ্য গার্ডিয়ান
নিউজ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের কলকাতায় অবস্থান ও রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বহু আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমানে ভারতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং সেখান থেকেই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা করছেন।
গার্ডিয়ান লিখেছে, কলকাতার শপিং মল ও ফুড কোর্টে বসে আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতারা ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। তাদের বিশ্বাস, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এখনো ‘নায়ক’ হিসেবে দেশে ফিরতে পারবেন।
১৬ মাস আগে এক গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে আন্দোলন দমনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এরপর সহিংসতা ও মামলার মুখে আওয়ামী লীগের শত শত নেতা-কর্মী ভারতে পালিয়ে যান। গার্ডিয়ানের দাবি, তাদের মধ্যে ছয় শতাধিক বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত করায় দলটি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিলেও তিনি সেই রায়কে ‘ভুয়া’ আখ্যা দিয়ে ভারতে বসেই দল পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গার্ডিয়ান জানায়, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তায় থাকা এক গোপন আশ্রয়স্থল থেকে শেখ হাসিনা নিয়মিত দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ অনেক নেতা সেখানে বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। সাদ্দাম বলেন, শেখ হাসিনা প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ফোনালাপ ও বৈঠকে ব্যস্ত থাকেন এবং তিনি আশাবাদী যে দেশে ফিরবেন।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের দাবি—তাদের ছাড়া নির্বাচন হলে সেটির গণতান্ত্রিক বৈধতা থাকবে না। দলটির নেতারা নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গার্ডিয়ান লিখেছে, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ভিন্নমত দমন, গুম, নির্যাতন, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন কারচুপির অভিযোগ ব্যাপক ছিল। তবে নির্বাসিত নেতাদের অনেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন।
একই সঙ্গে প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধেও সাংবাদিক নিপীড়ন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়া ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে নির্বাসিত আওয়ামী লীগ নেতাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ। তাদের বিশ্বাস, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না এবং শেষ পর্যন্ত জনগণ আবার আওয়ামী লীগের দিকেই ফিরবে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন