পশ্চিম তীরে ১২০০ বসতি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র নিয়ে শঙ্কা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
অধিকৃত পশ্চিম তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘E1’ এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০টি নতুন বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে ইসরায়েল। সমালোচকদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং পূর্ব জেরুজালেম ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
জেরুজালেমের পূর্বদিকে অবস্থিত E1 এলাকায় ইসরায়েলি বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলের বিরোধিতার মুখে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইসরায়েলের নতুন দরপত্র প্রকাশের নিন্দা করে একে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইসরায়েলকে অবিলম্বে E1 প্রকল্প স্থগিত, দরপত্র প্রত্যাহার এবং বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখলে নেয় ইসরায়েল। এরপর থেকে সেখানে প্রায় ১৬০টি ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যেখানে আনুমানিক ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করেন। একই এলাকায় প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
ইসরায়েলি সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, E1 এলাকায় অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ২৩৪টির জন্য দরপত্র দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির আওতাধীন এলাকা প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার, যা পূর্ব জেরুজালেম ও মালে আদুমিম ইসরায়েলি বসতির মাঝামাঝি অবস্থিত।
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী ও কট্টরপন্থী বসতি সমর্থক বেজালেল স্মোটরিচ গত বছর প্রকল্পটির অনুমোদনের সময় বলেছিলেন, এর মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণাকে ‘মুছে ফেলা’ হবে।
সমালোচকদের মতে, E1 এলাকায় বসতি গড়ে উঠলে পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হবে। এর ফলে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমকে যুক্ত করে একটি ধারাবাহিক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গড়ে তোলার সম্ভাবনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণবিরোধী সংগঠন ‘পিস নাও’ বলেছে, নির্বাচনের আগে নির্মাণকাজের চুক্তি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে সরকার। এতে ভবিষ্যৎ কোনো সরকার চাইলে প্রকল্প বাতিল করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী জামাল জুমা প্রকল্পটির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এর কারণে ওই এলাকার ৪০টির বেশি বেদুইন সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং অনেক পরিবারকে উচ্ছেদের মুখে পড়তে হতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রও নতুন দরপত্রের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি ইসরায়েলকে এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, E1 প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হতে পারে। কারণ পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হলে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য একটি সংযুক্ত ভূখণ্ড গঠন করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!
সংবাদটি শেয়ার করুন
প্রিয়জন ও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন
সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি শেয়ার:
লিংক কপি করুন:
ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে খবরটি মোবাইলে খুলুন