|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় পদক্ষেপ,যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাভলিন কিনবে ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৪৭ পিএম
১৪ পঠিত
00:00
00:00
প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় পদক্ষেপ,যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাভলিন কিনবে ভারত
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি জ্যাভলিন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনতে যাচ্ছে ভারতছবি: এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত ‘জ্যাভলিন’ একক সৈন্য বহনযোগ্য, ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ বা নিক্ষেপের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে লক্ষ্য অনুসরণকারী মাঝারি পাল্লার ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত। ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত বছরের নভেম্বরে ভারতের কাছে FGM-148 জ্যাভলিন অস্ত্র ব্যবস্থা বিক্রির অনুমোদন দেয় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর মাধ্যমে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গোর বলেন, “বড় খবর! ভারত যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন ট্যাংকবিধ্বংসী ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের মে মাসে শাংগ্রি-লা সংলাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিট হেগসেথ যেমনটি তুলে ধরেছিলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্র-ভারত প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি এবং যৌথভাবে উৎপাদনের সম্ভাবনার পথ খুলে দিচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বর্তমানে রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে।”

মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি ইতোমধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গোর আরও বলেন, “এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে যৌথভাবে কাজ করার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। ভবিষ্যতে এমন সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, যা উভয় দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে।”

ভারত ঠিক কতগুলো জ্যাভলিন ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা কিনছে বা এই ক্রয়ের মোট ব্যয় কত হবে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে নয়াদিল্লিও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

জ্যাভলিন সম্পর্কে

জ্যাভলিন হলো সাঁজোয়া লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে ব্যবহারের জন্য লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের যৌথভাবে তৈরি একটি বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর সামরিক বাহিনীতে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনা প্রযুক্তি রয়েছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর নিজেই লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে পারে। এতে অপারেটর দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে এবং পাল্টা আক্রমণ এড়াতে পারেন।

জ্যাভলিন সাধারণত ট্যাংকের ওপরের অংশে আঘাত করে, যেটি তুলনামূলকভাবে কম সুরক্ষিত। উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি উল্টো ‘U’ আকৃতির গতিপথ অনুসরণ করে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

অস্ত্রচালক একটি কার্সারের মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। এরপর কমান্ড লঞ্চ ইউনিট ক্ষেপণাস্ত্রকে উৎক্ষেপণের আগে লক্ষ্যবস্তুতে ‘লক-অন’ করার সংকেত পাঠায়। হালকা ওজনের কারণে নিক্ষেপের পর সেনারা দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করতে পারেন অথবা পুনরায় লোড করে অন্য লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারেন।

এর ‘সফট-লঞ্চ’ প্রযুক্তির কারণে ভবন ও বাঙ্কারের মতো আবদ্ধ স্থান থেকেও নিরাপদে এটি নিক্ষেপ করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরের জন্য জ্যাভলিন তৈরি ও উৎপাদন করেছে জ্যাভলিন জয়েন্ট ভেঞ্চার। এতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোয় অবস্থিত লকহিড মার্টিন এবং অ্যারিজোনার টাকসনে অবস্থিত রেথিয়ন যুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্ক

ভারতের মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার পরিমাণ বাড়ার মধ্যেই জ্যাভলিন কেনার এই পরিকল্পনার কথা জানা গেল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতকে সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভলিন ব্যবস্থা এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার গাইডেড আর্টিলারি গোলা সরবরাহের সম্ভাব্য ৯৩ মিলিয়ন ডলারের চুক্তির অনুমোদন দেয়।

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারী এবং ইউক্রেনের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক। দেশটি ইতোমধ্যে M777 হাউইটজারের সঙ্গে এক্সক্যালিবার গোলাবারুদ ব্যবহার করছে।

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের কাঠামোতে স্বাক্ষর করে। এর লক্ষ্য ছিল স্থল, সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সক্ষমতা ও সহযোগিতা জোরদার করা।

ভারত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অ্যাপাচি ও চিনুক হেলিকপ্টার, C-17 ও C-130J পরিবহন বিমান, P-8I সামুদ্রিক টহল বিমান এবং M777 হাউইটজারসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনেছে। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →