|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

শেখ হাসিনার হাত ধরে শুরু, রূপপুরে মিলল চূড়ান্ত অনুমোদন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
১২১ পঠিত
00:00
00:00
শেখ হাসিনার হাত ধরে শুরু, রূপপুরে মিলল চূড়ান্ত অনুমোদন
শেখ হাসিনার হাত ধরে শুরু হওয়া রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে মিলল চূড়ান্ত অনুমোদন। ছবি: সংগৃহীত

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। এর ফলে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে বায়রা এ অনুমোদন দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান।

অনুমোদনের পর বায়রা চেয়ারম্যান বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে ফিজিক্স টেস্ট শুরুর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করেন।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এই লাইসেন্স পাওয়ায় প্রথম ইউনিটের রিঅ্যাক্টরে ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ প্রক্রিয়া শুরু করতে বড় কোনো বাধা থাকল না। এ পর্যায়ে প্রথমবারের মতো রিঅ্যাক্টরের ভেতরে নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন চালু করা হবে।

এর আগে প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজড অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার বিভিন্ন পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ ব্যবস্থার ১২টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। পরে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপেও পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা হয়।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী ধাপে শুরু হবে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ সময় রিঅ্যাক্টরকে খুব কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করে এর বিভিন্ন পরামিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এরপর কেন্দ্রটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে যাবে। তখন রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন ও জেনারেটরের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। শেষ ধাপে জেনারেটরকে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করা হবে। এজন্য বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটকে শুরুতে কম ক্ষমতায় জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে পর্যায়ক্রমে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রিডে সংযুক্তির পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলতে পারে সাত থেকে আট মাস।

এনপিসিবিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে।

বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে বাংলাদেশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

রূপপুর প্রকল্পের মূল মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও দুই দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →