|
|
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

শতবর্ষী ঝলমল সিনেমা হল পুড়ে ছাই, হারানোর পথে গৌরীপুরের ঐতিহ্য

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
৩৩২ পঠিত
00:00
00:00
শতবর্ষী ঝলমল সিনেমা হল পুড়ে ছাই, হারানোর পথে গৌরীপুরের ঐতিহ্য
আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের শতবর্ষী ঝলমল সিনেমা হল। ছবি: সংগৃহীত

একসময় সিনেমাপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর থাকত ময়মনসিংহের গৌরীপুরের ‘ঝলমল’ সিনেমা হল। ১৯৬৫ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলা চলচ্চিত্র ‘রূপবান’ দেখতে বন্ধুদের সঙ্গে এই হলে ছুটে গিয়েছিলেন মো. আলী জিন্নাহ। রক্ষণশীল পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে সিনেমা দেখার সেই স্মৃতি আজও তার মনে অমলিন।

কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দর্শকদের সেই প্রিয় প্রেক্ষাগৃহ এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। গত ৭ অক্টোবর ভোররাতে আগুনে পুড়ে যায় শতবর্ষী এই স্থাপনাটি। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

৭১ বছর বয়সী প্রকৌশলী ও সাংস্কৃতিক কর্মী মো. আলী জিন্নাহ জানান, একসময় সিনেমা হলটির সামনে টিকিটের জন্য দীর্ঘ সারি দেখা যেত। সিনেমার নানা দৃশ্য ঘিরে দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর থাকত পুরো প্রেক্ষাগৃহ। হলটির এমন পরিণতির খবর শুনে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন।

পুড়ে যাওয়া স্থানে বাণিজ্যিক ভবন বা শপিং মল নির্মাণের পরিবর্তে ঐতিহাসিক স্থাপনাটির স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, সেখানে সরকারি উদ্যোগে ‘গৌরীপুর ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ অথবা একটি স্মারক ভবন গড়ে তোলা যেতে পারে।

নাট্যমঞ্চ থেকে সিনেমা হল

স্থানীয় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ববিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে গৌরীপুরের জমিদার পরিবারের বীরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী সংগীত ও নাট্যচর্চার প্রসারে ‘গৌরীপুর নাট্যমন্দির’ প্রতিষ্ঠা করেন। কলকাতার স্টার থিয়েটারের স্থাপত্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত এই মঞ্চে উদ্বোধনের সময় ‘শাহজাহান’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলে স্থাপনাটি সরকারের মালিকানায় আসে এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। প্রথমে ‘গিরি’ এবং পরে ‘প্রতিমা’ নামে পরিচিত হলেও একপর্যায়ে এর নাম হয় ‘ঝলমল’ সিনেমা হল।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, প্রায় ১৫ বছর ধরে হলটি বন্ধ ছিল। ২০১৬ সালে বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য এটি ভাড়া দেওয়া হয়।

সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন

প্রত্নতত্ত্ব গবেষকদের অভিযোগ, ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও ঝলমল সিনেমা হলটি সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের মতে, অগ্নিকাণ্ডে শুধু একটি পুরোনো ভবন নয়, গৌরীপুরের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির ময়মনসিংহ অঞ্চলের সদস্যসচিব ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন ভবনটিতে এলপিজি সিলিন্ডারের গুদাম ও দাহ্য কাঠের আসবাব তৈরির কারখানা থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থাপনাটিতে অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন জানিয়েছেন, সিনেমা হলটি বর্তমানে ১৬ জনের নামে লিজ দেওয়া রয়েছে। প্রাথমিকভাবে লিজের শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করার প্রমাণ পাওয়ায় লিজগ্রহীতাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গৌরীপুর জমিদার বাড়ি গত বছর সংরক্ষণের জন্য পুরাকীর্তির তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে ঝলমল সিনেমা হলটি এখনো ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রত্নতত্ত্ব গবেষকেরা। 
 

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →