উখিয়ায় ৪০ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে অগ্নিকাণ্ড, বিদ্যুৎহীন ৩৮০০ পরিবার
মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে গভীর নলকূপ খননের স্থান থেকে বের হওয়া গ্যাসে লাগা আগুন ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও নেভানো যায়নি। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় এবং বুধবার বিকেল পর্যন্ত এর তীব্রতা বেড়েই চলেছে। ভূগর্ভ থেকে অনবরত গ্যাস নির্গত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ও সেনাবাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, গ্যাসের চাপ বেশি থাকায় মাটি বা বালু দিয়ে জোর করে নির্গমন বন্ধ করলেও গ্যাস অন্য স্থান দিয়ে বের হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলের ২০০ মিটারের মধ্যে জনসমাগম সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছে এবং আশপাশের বসতবাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানিয়েছেন, স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ইনানী থেকে মনখালী হয়ে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৩ হাজার ৮০০ পরিবার। ২০০ মিটার এলাকায় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা। ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের নিচে আগুন জ্বলতে থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করেছে যা ঢাকায় পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগুনের উৎস ও গ্যাসের প্রকৃতি শনাক্তে কাজ করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।
বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এসএম নাফিকুন আরহাম জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে গ্যাসে উচ্চতর হাইড্রোকার্বনের উপস্থিতি থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূগর্ভস্থ উচ্চচাপের গ্যাস কোনো দুর্বল স্তর বা ফাটল দিয়ে বেরিয়ে আসছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গ্যাসের চাপ ও নির্গমনের প্রকৃত মাত্রা বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত আগুন কতদিন জ্বলবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বাপেক্সের কর্মকর্তারা। তিনি আরও বলেন, এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দলকে ইতোমধ্যেই ডাকা হয়েছে তবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, স্থানীয় জমির মালিক মোহাম্মদ আবদুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় প্রায় ১৫ দিন আগে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ শুরু হয়েছিল। এক সপ্তাহ খননের পর পানি না পাওয়ায় শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে চলে যান। পরবর্তীতে সেখান থেকে গ্যাস বের হতে শুরু করে এবং একপর্যায়ে পাশের বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আগুনের সূত্রপাত হয়।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, সাধারণ পাইপলাইনের গ্যাস হলে ভালভ বন্ধ করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো, কিন্তু ভূগর্ভের উচ্চচাপের কারণে এখানে প্রথাগত পদ্ধতিতে আগুন নেভানো যাচ্ছে না। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে কক্সবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কাজ শুরু করেছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উখিয়া জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কাইজার নূর জানান, বাপেক্সের পরামর্শ অনুযায়ী বিকল্প পথে প্রায় ৩০০ মিটার নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার মাধ্যমে চার হাজার গ্রাহককে পুনরায় বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। পুরো ঘটনা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।