|
|
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

কাপ্তাই হ্রদের ৫ দেশীয় মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০১ এএম
২৫ পঠিত
00:00
00:00
কাপ্তাই হ্রদের ৫ দেশীয় মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদের মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি ‘ডিসকাভার এনভায়রনমেন্ট’ নামক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় উঠে এসেছে যে, হ্রদের পাঁচটি জনপ্রিয় দেশীয় প্রজাতির সব কটি নমুনায় ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে ট্যাংরা মাছে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) ফিশারিজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একদল গবেষক এ সমীক্ষা পরিচালনা করেছেন। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার, সুবলং বাজার ও বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে কাচকি, চাপিলা, ট্যাংরা, মলা ও ঢেলা মাছের ৭৫টি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতিটি নমুনা মাছের দেহেই ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণা রয়েছে। বিশেষ করে ট্যাংরা মাছে প্রতি গ্রামে গড়ে শূন্য দশমিক ৬৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের ধারণা, হ্রদের তলদেশের কাদা ও বালু থেকে খাবার সংগ্রহের সময় এসব মাছ বেশি প্লাস্টিক কণা গ্রহণ করে থাকে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মাছের দেহে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের ৮৫ শতাংশই ফাইবার বা সুতা আকৃতির। রাসায়নিক বিশ্লেষণে এর ৭১ শতাংশই পলিথিন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, যা মূলত প্লাস্টিকের বোতল, ব্যাগ ও বিভিন্ন মোড়কজাত বর্জ্য থেকে তৈরি। নমুনায় নীল, কালো ও সাদা রঙের কণাগুলো মূলত হ্রদের আশপাশে অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের ফেলে দেওয়া ময়লা এবং পুরোনো জাল থেকে ছড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ড্রেন কিংবা বৃষ্টির পানির মাধ্যমে এসব বর্জ্য হ্রদের পানিতে মিশছে। হ্রদভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্লাস্টিকের ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।

সিভাসুর ফিশারিজ রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন রানা জানান, বড় প্লাস্টিক ভেঙে ছোট কণায় পরিণত হয়, যা মাছ খাবার ভেবে গ্রহণ করে। এতে মাছের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমা হয়। তিনি আরও বলেন, হ্রদের পর্যটন এলাকায় প্লাস্টিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প নেই। পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন হতে হবে।’।

গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, কাপ্তাই হ্রদের ছোট মাছ সাধারণত নাড়িভুঁড়িসহ আস্ত রান্না করা হয়, ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিক সরাসরি মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশের উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব প্লাস্টিক গ্রহণের ফলে মানবশরীরে প্রদাহ বা বিপাকজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় হ্রদভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র ও আশপাশের বসতিতে পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন গবেষক দল। কাপ্তাই হ্রদের জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন গবেষকেরা।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →