|
|
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

জীবন বদলে দিতে পারে সূরা বাকারার ৮টি শিক্ষা

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০০ পিএম
২৭ পঠিত
00:00
00:00
জীবন বদলে দিতে পারে সূরা বাকারার ৮টি শিক্ষা

পবিত্র কুরআনের দ্বিতীয় ও দীর্ঘতম সূরা আল-বাকারা। মদিনায় অবতীর্ণ এই সূরায় মানুষের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিস্তৃত দিকনির্দেশনা রয়েছে। তাওহিদ, তাকওয়া, ধৈর্য, ক্ষমা এবং অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার থেকে শুরু করে লেনদেনের স্বচ্ছতা পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে এই সূরা সুস্পষ্ট শিক্ষা দেয়। এর ২৫৫ নম্বর আয়াতটি ‘আয়াতুল কুরসি’ হিসেবে পরিচিত, যা কুরআনের অন্যতম প্রসিদ্ধ আয়াত। এছাড়া সূরাটির শেষ দুটি আয়াতের (২৮৫-২৮৬) বিশেষ ফজিলত রয়েছে। কোরআনের শিক্ষা গ্রহণ ও তা অনুসরণের জন্যও তাকওয়া অপরিহার্য। প্রিয়জন হারানো কিংবা ধনসম্পদের ক্ষতি মানুষের মনে গভীর বেদনা সৃষ্টি করে।

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি হলো জীবনের ভালো-মন্দ চেনার মূল মাপকাঠি। অন্তরে আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসা থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। সূরা বাকারার দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘এ সেই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক।’ মূলত এই তাকওয়াই কুরআনের শিক্ষা গ্রহণের পূর্বশর্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এ সেই কিতাব, এতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকিদের (তাকওয়াবানদের) জন্য পথপ্রদর্শক।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২)।

মানুষের ভুল করার প্রবণতা থাকলেও শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচতে অনুতাপ ও তওবার শিক্ষা দেয় এই সূরা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মানবজাতি! পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে, তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৬৮)

জীবনের কঠিনতম সময়ে ধৈর্য ও সালাত মানুষের বড় অবলম্বন। বিপদকালে হতাশ না হয়ে ধৈর্যের সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য চাওয়ার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ বলেন, ‘হে ইমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৩) জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে মানুষ যখন দিশা হারিয়ে ফেলে, তখন ধৈর্য ও সালাত তাকে দৃঢ় থাকতে সাহায্য করে।

প্রিয়জন বা সম্পদ হারানোর বেদনায় ভেঙে না পড়ে মুমিনের উচিত আল্লাহর প্রতি সমর্পণ করা। এই বিশ্বাসই মানসিক প্রশান্তি দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কোনো বিপদে পতিত হলে বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চিতভাবেই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৬) এমন পরিস্থিতিতে মুমিনের বিশ্বাস, দুনিয়ার সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী এবং প্রত্যেককেই একদিন আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। এই বিশ্বাস বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ ও মানসিক প্রশান্তি অর্জনে সহায়তা করে।

দাম্পত্য জীবনে বিচ্ছেদ বা মতপার্থক্যের মুহূর্তেও একে অপরের প্রতি সম্মান ও সৌজন্য বজায় রাখার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। এ বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও সৌজন্যের কথা ভুলে যেয়ো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৭)

ইসলামে সুদের মতো শোষণমূলক লেনদেন নিষিদ্ধ। এর পরিবর্তে দান ও করজে হাসানার মাধ্যমে মানবিক অর্থনীতি গড়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৭৫)

আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সব ধরনের ঋণের হিসাব লিখিত রাখা ও সাক্ষী রাখার নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য পরস্পরের মধ্যে ঋণের লেনদেন করো, তখন তা লিখে রাখ।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৮২)

সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত বা ‘আমানার রাসুলু’ তিলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) এক হাদিসে জানিয়েছেন, যখন তাঁকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তাঁকে তিনটি বিশেষ উপহার দেওয়া হয়—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সূরা বাকারার শেষ দুটি আয়াত এবং শিরক না করা উম্মতের কবিরা গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রাতে এই দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য তা যথেষ্ট। হজরত আলী (রা.) বলেছেন, যার বুদ্ধি আছে, সে এই আয়াতগুলো না পড়ে ঘুমাবে না। এছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ঘরকে যেন কবরস্থান না বানানো হয়। যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, সেখান থেকে শয়তান পালিয়ে যায়। পরপর তিন রাত শেষ দুটি আয়াত পাঠ করলে শয়তান সেই ঘরের ধারেকাছেও আসতে পারে না। অন্যায় বা পাপের পথে মানুষকে ধীরে ধীরে পরিচালিত করে শয়তান।

তিলাওয়াতের বরকত সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সূরা বাকারা শিক্ষা করো। কারণ এর গ্রহণের মধ্যে বরকত রয়েছে এবং বর্জন করা অনুতাপের কারণ। কোনো বাতিলপন্থী বা জাদুকর এর মোকাবিলা করতে পারে না। জীবনের প্রতিটি পরীক্ষায় ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখলে অসম্ভব কাজও সহজ হয়।

সূরা বাকারার বিভিন্ন আয়াতে থাকা হৃদয়স্পর্শী দোয়াগুলো মুমিনের আত্মিক প্রশান্তি ও নৈকট্য লাভের সেরা মাধ্যম। এই সূরাটি আমাদের বিশ্বাসের প্রশ্নে অটল থাকা এবং আকিদার সুরক্ষার শিক্ষা দেয়।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →