|
|
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সর্বস্বত্ব মুখপত্র কর্তৃক সংরক্ষিত

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →

এইচআরডব্লিউ: বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে

মুখপত্র অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ এএম
২০ পঠিত
00:00
00:00
এইচআরডব্লিউ: বিক্ষোভরত পোশাকশ্রমিকদের বিরুদ্ধে পুলিশ যেন অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ না করে

মজুরি বাড়ানোর দাবিতে রাজপথে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার জন্য বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি এ আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে পোশাক শিল্পে সাম্প্রতিক সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তারা। পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি ডিসেম্বরে, বোর্ডের প্রথম সভা শেষে জানালেন মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা। মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষ, গাড়িতে আগুন।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বেতন বাড়ানোর যৌক্তিক দাবি নিয়ে হাজারো শ্রমিক রাস্তায় নামলে তাদের দমাতে পুলিশ নির্বিচারে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে। আন্দোলনের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে কারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের ওপর হামলার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে কারখানার মালিক ও রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট দুর্বৃত্তদেরও এই সহিংসতায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত কেবল প্রয়োজনবোধে বলপ্রয়োগ করা।

তবে তা কোনোভাবেই যেন প্রয়োজনের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত না হয়। ৩ নভেম্বর তৌফিক হোসেন নামের এক শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাটি সামনে এনেছে এইচআরডব্লিউ। নিহতের এক সহকর্মী জানান, দুপুরের খাবার খেয়ে ফেরার পথে তৌফিক শ্রমিক বিক্ষোভ ও ভাড়া করে আনা লোকজনের মধ্যে আটকা পড়েন। তিনি দাবি করেন, বিক্ষোভে বাধা দেওয়ার জন্য অন্য কারখানা থেকে আনা ওই ব্যক্তিরা তৌফিককে পিটিয়ে হত্যা করেছে। পেছনে ফিরে দেখি, তৌফিক মাটিতে পড়ে আছেন। ভাড়া করে আনা লোকজন তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়েছিল।’। গাজীপুরে বিক্ষোভে আহত পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু, অর্ধশত কারখানায় ছুটি।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা বর্তমানে মাসিক ৩০ হাজার টাকা মজুরি দাবি করছেন। ২০২৩ সালে সর্বশেষ সর্বনিম্ন বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। একজন সেলাই মেশিন অপারেটর জানান, বর্তমানে ১৩ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে বাসা ভাড়া ও গ্যাসের বিল পরিশোধের পর সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার গত ১ নভেম্বর একটি মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং নতুন কাঠামো ডিসেম্বরে কার্যকর করার আশ্বাস দিয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এক সেলাই মেশিন অপারেটর বলেন, ‘আমার বাসাভাড়া ৬ হাজার টাকা। রান্নার গ্যাসের দাম এখন ২ হাজার ৩০০ টাকা। বলুন তো, খাবারের জন্য আর কত টাকা থাকে?’।

তবে শ্রমিকদের দাবির বিষয়টি আমলে না নিয়ে কর্তৃপক্ষ উল্টো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে এই অস্থিরতার জন্য দায়ী করছে বলে অভিযোগ করেছে এইচআরডব্লিউ। ৩ নভেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে, নাশকতার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৩৩ জন সমর্থককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন বিএনপির যুব সংগঠনের কর্মীরাও শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইনি জটিলতার বিষয়ে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ৩ নভেম্বর আশুলিয়া থেকে তিনজন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া হাজারো অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এক শ্রমিকের স্ত্রী জানান, তার স্বামী স্বল্প সময়ের জন্য বিক্ষোভে অংশ নিলেও কোনো সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, তবুও তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া এক ব্যক্তির ২৮ বছর বয়সী স্ত্রী বলেন, ‘তারা আমার স্বামীকে ধরে নিয়ে গেছে।

এইচআরডব্লিউর ভাষ্যমতে, মজুরি বিতর্ককে ঘিরে এই সহিংসতা ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর দায়বদ্ধতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সংস্থাটির মতে, ব্র্যান্ডগুলোর উচিত সরবরাহকারী কারখানাগুলোর সাথে চুক্তির সময় এমন শর্ত নিশ্চিত করা, যা শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বা তাদের ন্যায্য মজুরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোরও ভূমিকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বিএনপি মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এছাড়া এপ্রিলে সংশোধিত শ্রম আইনে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পর্যালোচনার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠকদের কালো তালিকাভুক্ত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন | ব্যানার স্পট

আপনার ব্যবসার প্রসারে আমাদের জনপ্রিয় নিউজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞাপন দিন!

বিজ্ঞাপন দিন →